প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩, ৪:৩৮ পিএম (ভিজিট : ১৯৫)

X
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদরের নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। ময়লা-আবর্জনায় ড্রেনগুলো ভরাট থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানজুড়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অপরিচ্ছন্ন এসব ড্রেন স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করলেও সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
এদিকে, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য রাস্তার পাশে ছোট ছোট ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। আবর্জনা ও ময়লা পানি নিষ্কাশিত হয় এসব ড্রেন দিয়ে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, এসব ড্রেনে ঢাকনা নেই। রাস্তার পাশে হওয়ায় ড্রেনগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্ধকারে অনেকেই ড্রেনের অবস্থান বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এছাড়া খোলা ড্রেনে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক যুগ পার হলেও পৌরসদরের আমিরাবাদ কালি মন্দির সড়কের এই ড্রেনটিতে ঢাকনা লাগানো হয়নি। অপরিচ্ছন্ন ড্রেনগুলোতে সহজেই মশার উপদ্রব বাড়ছে। বর্তমানে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ বিদ্যমান। তাই অপরিচ্ছন্ন ড্রেন সবার জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ড্রেনে পানি জমাট হয়ে ডেঙ্গুর লার্ভা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার আমিরাবাদসহ কয়েকটি এলাকায় এ পরিপূর্ণ হয়ে আছে পলিথিন, কাগজ, কাপড়ের টুকরো আর প্লাস্টিক সামগ্রী দিয়ে। এতে করে সৃষ্টি হয়েছে আবদ্ধতা। দীর্ঘদিন জমে আছে কালো ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি।
অন্যদিকে, সব ময়লা আর পানি একত্রে মিশে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। আর তাতেই উড়ছে মশা। দেখা যাচ্ছে ময়লা পানিযুক্ত ড্রেনের দু’পাশেই উচ্ছিষ্ট জিনিসপত্র পড়ে আছে। যেটি দেখলে ময়লা ফেলার স্থান মনে হয়। ড্রেনও ভরাট ময়লা-আবর্জনার স্তূপে। যেখান থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ আর সৃষ্টি হয়েছে মশার উপদ্রব। রাস্তার পাশে থাকা ড্রেনগুলো যেন মশার উপদ্রবের জন্য উপযুক্ত স্থান। এখানেও ময়লা আর পানি একত্রে মিশে কালো রঙ ধারণ করেছে। ভন ভন করে উড়ছে মশা। বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট ও ময়লা-আবর্জনে স্তূপাকারে ফেলে রাখা হয়েছে। এসব উচ্ছিষ্টে মশা উড়ছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের অন্য উপজেলার চেয়েও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সীতাকুণ্ডে।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দীন রাশেদ জানান, সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছ। সীতাকুণ্ডেও আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসলেই ডেঙ্গু টেস্ট করানো হচ্ছে। আমরাও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বাড়ির উঠানে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ করছি। তবে, নালা-নর্দমা তিনদিনের বেশি পানি জমা থাকলে ডেঙ্গুর লার্ভা জন্ম নিবে। তাইতো আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখুন।
পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম বলেন, মশার লার্ভার ওষুধ দিচ্ছি এবং ধোঁয়া স্প্রে করছি। এছাড়া পৌর এলাকা পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমিরাবাদ বা যেসব এলাকায় এমন পানি জমাট হওয়া ড্রেন থাকে সেটি আমি খবর নিব। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করব।
বাবু/জেএম