
X
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন সীমান্তের চোরাচালান সিন্ডিকেট বাণিজ্য চক্রের সাথে জড়িত ‘কিশোর গ্যাং’। এটি এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে, এর বাস্তবতা গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে, এই বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায় রয়েছে। সীমান্তে এই সক্রিয় কিশোর গ্যাংদের বলা হয়ে থাকে গোল্ডেন ডেঞ্জার বয়েজ নামে। এই বয়েসে এরা এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, সীমান্তে চোরাচালান বানিজ্যে প্রতি মহাজনের আওতায় শত শত মোটরযান লেভার বিশ থেকে ত্রিশজন সিকরিটি গার্ড বা সেন্টি (পাহাড়াদার) থাকে। এরা বিজিবিকে টহল দেয়, বিজিবি কখন ক্যাম্প থেকে বের হয়ে কোথায় কোন রোড দিয়ে সীমান্তে প্রবেশ করছে, এই খবর ওই কিশোররা সঙ্গে সঙ্গে পৌছে দিচ্ছে মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে থাকা তাদের গ্যাংদের কাছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এদের বয়স সীমা ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী কিশোর। ওদের সবার কানে কানে হেডফোন কারো কারো হাতে অকিটকি নিয়ে কয়েক গজ দূরে দূরে বসে পাহাড়া দিচ্ছে, আর কে বা কাহারা সীমান্তে ডুকছে। এরা হাটতে হাটতে একজনের কাছ থেকে আরেক জনের কাছে দ্রুত খবর পৌছে দেয়। এই কিশোরগুলোকে দেখলে মনে হবে, এরা ভদ্র বেশে ছদ্ম আবরণে রাস্তা দিয়ে হাটছে, খেলছে, ঘুরতে আসা কোন পর্যটক। এরা যাদের আন্ডারে কাজ করছে এই মহাজনেরা হলো-ফুলবাড়ি এলাকার সাংবাদিক পরিচয়ে ইয়াসিন মিয়া, ব্যবসায়ী রুইশো, একিম মড়ল, রসিয়া, মজিদ, আব্দুল গফুর, রমজান, কাশেম, আরশাদ মিয়া, জালাল মিয়া, কালাপানির এলাকার গডফাদার জামাল মিয়া, গারো বিপ্লব, আইনল, মানিক, সাইদুল, মহাজন রবার্ট নখরেট।
এছাড়াও বটতলা গৌরিপুর, লেঙ্গুড়া, চৈতা নগর, নাজিরপুর, চন্ডিগড়, রাধানগর, নয়া বাজার, কেপাসিটি মোড়, কালিকাপুর, ভরতপুর,কাঠালবাড়ি, চেংগ্নী, ফুলবাড়ি, কালাপানি এরিয়া দিয়ে রবার্ট নখরেটের বাড়ি হয়ে ভারতে প্রবেশ করে টনে টনে সুপারি, চিনি, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদক, পোশাক, কসমেটিকস থেকে শুরু করে নানা ধরনের চোরাই মালামাল এপার থেকে ওপারে আসা নেয়া করছে এই চোরাকারবারিরা।
অনেকের প্রশ্ন, সীমান্তের এই প্রবেশদার রাস্তা বা এরিয়াগুলো যেনো সরকার ইনপোর্ট পারমিশন দিয়েছে এই চোরাকারবারিদের। দিন দুপুরে তো হরদম চলছেই রাতেও যেনো শত শত মোটরযান লেভার ছোট ছোট এই কিশোর গ্যাংদের দিয়ে এভাবেই লাইনমেইন্টেইন করে অহরাহর চলছে সীমান্তে এই অবৈধ চোরাই বাণিজ্য। নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক, স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল প্রতিনিধি জানান, এই যে কিশোর গ্যাং গুলো অল্প বয়সেই এমন অপরাধের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে। এদের অদুর ভবিষ্যৎ কি হবে? অন্ধকার ছাড়া। এদের দিয়ে সব রকমের অন্যায় অবৈধ কাজগুলো করাচ্ছে ওই চোরাচালানের মহাজন গডফাদাররা! এ উপজেলার প্রশাসন কেন যে নিরব ভুমিকায়? দেখেনা কেউ এসে সীমান্তেরই তরুণ কিশোরদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিণতি ও তাদের অবৈধ অপরাধের সাথে জড়িয়ে যাওয়া দৃশ্যমান নির্মম পরিস্থিতি।
বাবু/জেএম