প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩, ৭:৩৫ পিএম (ভিজিট : ১৭১)

X
শেরপুরের নালিতাবাড়ির এক প্রত্যন্ত গ্রামে ৩০টির অধিক পবিত্র কোরআন শরিফ ও বেশ কিছু কায়দা-ছিপাড়া আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।
আজ বৃহস্পতিবার একটি ক্বেরাতিয়া মাদরাসায় কোরআন পোড়ানোর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রূপনারায়নকুঁড়া ইউনিয়নের গাছগড়া উত্তরপাড়া গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে পাঁচ শতাংশ জমিতে কেরাতিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এলাকাবাসী। ওই মাদরাসায় প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন ভোর ছয়টা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত এলাকার ছেলে-মেয়েরা শুধুমাত্র কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করে। জহুরুল হক নামে একজন হাফেজ ওই মাদরাসায় পাঠদান করান।
আশপাশে কোন মসজিদ না থাকায় মাদরাসায় স্থানীয় মুসল্লীরা নিজ উদ্যোগে নিজেরা ইমামতি করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে থাকেন। ফলে মাদরাসা ও নামাযের সময় ব্যতীত ওই প্রতিষ্ঠানে কেউ থাকে না। বরং নামাযের জন্য ভিটিপাকা টিনসেড ওই প্রতিষ্ঠানটির দরজা তালার বদলে শুধুমাত্র সিটকিনি দিয়ে আটকানো থাকে।
বৃহস্পতিবার ভোরে প্রতিদিনের মতো ফজরের নামায আদায় করতে মক্তবে যান স্থানীয় মুসল্লী মিরাজ আলী (৫৫)। দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে তিনি মেঝেতে কোরআন শরীফ ও কায়দা-ছিপাড়া আগুনে পোড়া অবস্থায় দেখেন। এসময় আশপাশের লোকজনকে ডেকে বিষয়টি জানান তিনি।
এ সময় কাঠের রেকে রাখা অন্তত ত্রিশটির মতো পবিত্র কোরআন শরীফ ও বেশকিছু কায়দা-ছিপাড়া মেঝেতে জ্বলে ছাই হওয়া অবস্থায় দেখেন। পর্যায়ক্রমে এ খবর চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মানুষ থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু, ইউএনও খ্রীষ্টফার হিমেল রিছিল, সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) রায়হানা ইয়াসমিন, থানার ওসি এমদাদুল হকসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ছুটে আসেন। স্থানীয় মুসল্লী মিরাজ আলী বলেন, ফজরের নামায পড়তে এসে মাদরাসার মেঝেতে কোরআন শরীফ জ্বলতে দেখি। পরে বিষয়টি জানাতে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনি।
মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ জহুরুল হক বলেন, ভোরে ফজরের নামায আদায়ের পর ফোনে খবর পাই মক্তবের কোরআন শরিফগুলো কে বা কারা পুড়িয়ে ফেলেছে। পরে দ্রুত এসে মক্তবের টিনের বেড়ার সাথে ঝুলন্ত কাঠের রেকে রাখা প্রায় ৩০টির মতো কোনআন শরীফ ও অনেকগুলো কায়দা-ছিপাড়া মেঝেতে জ্বলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুল ফখরুজ্জামান জুয়েল বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার বিষয়ে জানতে স্থানীয় চার ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।
বাবু/জেএম