প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০২৩, ৭:৪৪ পিএম (ভিজিট : ১৩৯)

X
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা পূর্ব পাড়ে দেখা দেয় তীব্র ভাঙন। আর যমুনার এই ভাঙনে ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলের জমি হারিয়ে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি করে আসছে ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি বছরে বর্ষা মৌসুমে উপজেলার যমুনা পূর্ব পাড়ের চিতুলিয়াপাড়া, মাটিকাটা ও পাটিতাপাড়া এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ভাঙন কবলিত এলাকার এসব মানুষ। পরে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ তেমন একটা কাজে আসছে না। জিও ব্যাগ সহ ঘরবাড়ি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে পাটিতাপাড়া এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাকা-আধাপাকা ঘরবাড়ি সহ অসংখ্য স্থাপনা। এতে হুমকির মুখে রয়েছে ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অসংখ্য ঘরবাড়ি।
যমুনা পূর্ব পাড়ের পাটিতাপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিন, মিনহাজ মিয়া, আব্দুল করিম সহ আরও অনেকে জানান- আমরা যমুনা পূর্ব পাড়ের ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ কয়েক বছর ধরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি করে আসছি। কিন্তু স্থায়ী বাঁধ নির্মাণতো দূরের কথা আজ পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ভাঙন শুরু হলে কিছু কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সেগুলো সহ ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। আমরা অসহায় মানুষ, আমাদের চোখের সামনেই সবকিছু ভেঙে যায়, আমরা কিছু করতে পারি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন আমরা কী কোনদিন এই নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবো না?
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোছা. নার্গীস বেগম বলেন, আমাদের উপজেলাটি যমুনা তীরবর্তী একটি উপজেলা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে যমুনার পূর্ব পাড়ের বেশ কিছু এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দেয়। এ বছর চিতুলিয়াপাড়া, মাটিকাটা এবং পাটিতাপাড়ার কিছু অংশে ভাঙন শুরু হয়েছিল। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করলে তারা ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বর্তমানে পাটিতাপাড়া ভাঙনের বিষয়ে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভূঞাপুরের যমুনা পূর্ব পাড়ের ৫৫ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে। বাকি জায়গাগুলোর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
বাবু/জেএম