ঘাটাইলের বগা গ্রামের দুর্ভোগ ৩ কি. মি. সড়ক

রেজাউল করিম খান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)

সারাবাংলা

টাঙ্গাইলে ঘাটাইলে একটি অবহেলিত গ্রাম হচ্ছে বগা। বিগত বছরগুলোতে গ্রামে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। একটি পাকা রাস্তা ছাড়া নেই

2023-08-10T19:25:15+00:00
2023-08-10T19:25:15+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঘাটাইলের বগা গ্রামের দুর্ভোগ ৩ কি. মি. সড়ক
রেজাউল করিম খান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩, ৭:২৫ পিএম   (ভিজিট : ৬৬৬)
X

টাঙ্গাইলে ঘাটাইলে একটি অবহেলিত গ্রাম হচ্ছে বগা। বিগত বছরগুলোতে গ্রামে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। একটি পাকা রাস্তা ছাড়া নেই ভালো কোনো রাস্তাঘাট। পাকা রাস্তাটি ২০ বছর আগে হয়েছিল। পাকুটিয়া থেকে দেওজানা যা গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে গিয়েছে। এছাড়া কোন রাস্তায় ইটের সোলিং পর্যন্ত ও করা নেই। বগা-পাকুটিয়াগামী লোকজনের যাতায়াতে এ কাচা রাস্তাটিই ব্যবহৃত হতো। 

চেংড়াভাঙা-দেওজানা (আনসার মিলিটারির বাড়ি পর্যন্ত) জনবহুল 'বগা উওরা বাজার' হয়ে  প্রায় ৩ কিঃ লিঃ রাস্তার আশে পাশের জনবসতি কয়েক হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। অনেকে রাস্তার কারণে তারা সফলতার মুখ দেখতে পারে না, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপের কারণে দিন মজুরের খরচ বেশি দাড়ায়, সাধারন কর্মঠ মানুষরা যারা ভ্যান, রিকসা, আটো চালিয়ে দিন আনে দিন খায়, তারা এই রাস্তার বেহাল অবস্থায় জন্য কর্মে যাইতে পারে না। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগা গ্রামটি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নবগঠিত ১২ সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ‘একটি গ্রাম একটি ওয়ার্ড’ খ্যাত বগা গ্রাম। গ্রামটি উপজেলা সদরের টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাকুটিয়া থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি অঞ্চলের অন্তর্র্বতী এই গ্রামটির অবস্থান। লাল মাটির পাহাড়িয়া অঞ্চল নিয়ে গ্রামটি গড়ে ওঠে। বর্তমানে এই গ্রামে বাস করেন সাত হাজারের বেশি মানুষ। এখানে ৯০ শতাংশ লোকের প্রধান পেশা কৃষি কাজ। গ্রামটি উপজেলার শেষপ্রান্তে হওয়ায় শুরু থেকেই অবহেলিত এ গ্রামের বাসিন্দারা। যে দলই ক্ষমতায় আসে না কেন, তাদের প্রতিনিধিরা শুধু ভোটের সময়ই এই গ্রামে আসেন। নির্বাচন শেষে তারা উধাও হয়ে যান। এলাকার মানুষ উন্নয়নের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তাদের কোনো দেখা পান না। এই এলাকার মানুষ মূলত গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি লালন-পালন, কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু রাস্তা না থাকায় গ্রামের মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ যাবতীয় সবকিছু বাজারজাত করতে শহরে নিতে পারছেন না।

গ্রামে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একটি করে মাদরাসা ও স্কুল এবং হাফিজিয়া মাদ্রসা ও এতিমখানা রয়েছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বর্ষাকালে স্কুল ও মাদরাসায় যেতে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। সবাইকে সব কাজেই পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। গ্রামবাসী মো. মজিবর শেখ জানায়, আমরা গ্রামের মানুষ, গরু-ছাগল লালন-পালনসহ কৃষি কাজ করেই করেই আমাদের জীবন চলে। বৃষ্টি হলে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। বৃষ্টি হলে রাস্তায় চলতে পারি না। অনেক বছর ধরেই শুনে আসছি রাস্তা করে দেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খবর নেই। মো. আজিজ আকন্দ জানায়, নির্বাচন এলে মেম্বার থেকে এমপি পর্যন্ত সবাই  অনেক প্রতিশ্রুতি দেয় আমাদের সব সমস্যার করবে রাস্তার জন্য কাজ করবে। কিন্তু ভোটের পর তাদের আর দেখা যায় না। ভোটের সময় এলেই তাদের প্রতিশ্রুতিতে আমরা ভেসে যাই।

মো. কাদের মেলেটারি জানায়, জনপ্রতিনিধিরা সবাই নির্বাচনের পর ব্যস্ত হয়ে যায়। আমাদের কেউ খোঁজ রাখে না।  কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই না। বর্তমান  সরকার যখন দেশের মানুষের জন্য অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। তখনো এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের মুখের ভুলিতে উন্নয়নেয় সপ্ন দেখে।

সংগ্রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন (বাবু) বলেন- 'রাস্তাতো মাফ দিয়ে নিয়ে গেছে, যে কোনো সময় কাজ ধরবে, ১ কিমি. রাস্তার কাজ হবে'।

বাবু/জেএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy