
X
দীর্ঘ দিনের দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের পাশাপাশি ইদানীং চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে। রোগী কিংবা স্বজন, হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স কেউ রেহাই পাচ্ছে না চুরি-ছিনতাইয়ের থেকে।
টিকিট কাউন্টারসহ হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে গত ১৫দিনে অন্তত ১০-১২টা মোবাইল চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে উদাসীন হাসপাতাল প্রশাসন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের চেয়ে অনেক শৃঙ্খলা এবং কন্ট্রোলের ভেতর চলে আসছে হাসপাতাল। চোরদের ধরতে তারাও সহযোগিতা চান।
একাধিক রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে সারা রাত বহিরাগতরা টহল দেয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে। কেউ এম্বুলেন্স ড্রাইভার আবার কেউ ওষুধের কোম্পানীর প্রতিনিধি পরিচয়, আবার কেউ রোগীর স্বজন পরিচয়ে সার্বক্ষণিক দলবেঁধে ওয়ার্ডের ভেতরে আসা যাওয়া করে। এতে হুমকিতে পড়েছে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরাই সুযোগ বুঝে চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে।
কিছুদিন আগে রাতে শিশু ওয়ার্ড থেকে কর্তব্যরত একজন নার্সের মোবাইল চুরি হয়। তার কয়েকদিন আগে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা ফাহমিদা নামে আরও একজনের মোবাইল চুরি হয়।
ভুক্তভোগী ওই নার্স জানান, আছরের সময় শিশু রোগীদের মেডিসিন দিতে যখন ব্যস্ত ঠিক তখন রোগীর স্বজন পরিচয়ে ২০-২২ বছরের একজন ছেলে ব্যাগ থেকে আমার মোবাইলটা নিয়ে যাচ্ছে। চুরি করার সময় পাশের একজন রোগীর স্বজন আমাকে বললে আমি তাকে ধরে ফেলি। তখন সবার সামনে মোবাইলটা তার থেকে নিয়ে ফেলি। বিষয়টা পুরো হাসপাতাল জানে। এরকম আরও কয়েকজনের মোবাইল ও টাকা-পয়সা চুরি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী নার্সের।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চিকিৎসা নিতে আসা নারীদের টার্গেট করে চোরদের উপদ্রব বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন সময়ে সেবা নিতে এসে শুধু এই হাসপাতাল থেকেই একডজন মৌবাইল চুরিও টাকা পয়সা ছিনতাই হয়েছে।
জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক নারী। ছিনতাইকারীরা তার থেকে দামি মোবাইল ও টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনা হাসপাতালজুড়ে আলোচিত হয়।
একাধিক রোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে চোর ও ছিনতাইকারীদের হাতেনাতে ধরে থানা পুলিশে দেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থানাতে কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা দায়ের করেন না। এতে সহজেই তারা ছাড়া পেয়ে পুনরায় এ কাজে লিপ্ত হয়। এছাড়া হাসপাতাল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা প্রতিনিয়তই এড়িয়ে যাচ্ছেন বিষয়টি। ফলে দিন দিনই বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা।
এ ব্যাপারে জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আশিকুর রহমান দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, হাসপাতালে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও হাসপাতালের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে রোগীর স্বজন বা আত্বিয় পরিচয় দিয়ে দুর্বৃত্তরা এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান,অচিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের এ ব্যাপারে বারবার সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সাথে পুরো হাসপাতাল জুড়ে সিসি ক্যামরা সচল রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার।
উল্লেখ্য, হাসপাতালটিতে উন্নত চিকিৎসার আশায় কক্সবাজারের ৯টি উপজেলা থেকে মূমুর্ষ রোগী এবং রোহিঙ্গা রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
বাবু/জেএম