প্রকাশ: রোববার, ২০ আগস্ট, ২০২৩, ৮:১০ পিএম (ভিজিট : ৩৪৮)

X
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে অরক্ষিতভাবে। রবিবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আখাউড়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অফিসে খোলামেলা স্থানে বসে শিক্ষকরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ভাগাভাগি করে নেয়। এসময় ওই রুমের সমস্ত দরজা, জানালা খোলাসহ সাধারণ মানুষ অবাধ যাতায়াত করতে দেখা যায়। ওই রুমে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের ১৫-২০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল সোমবার থেকে উপজেলা ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। এভার প্রতি সেট প্রশ্নপত্রের মূল্য ধরা হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণি ১০ টাকা ও তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি সেট প্রশ্নের দাম রাখা হচ্ছে ১৫ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রশ্নপত্র ছাপা ও বিতরণের জন্য ১০-১১ জনের একটি আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান। প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময় ওই কমিটির দুই-তিনজন শিক্ষক সাথে থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি কাউকে সাথে রাখে নাই। প্রশ্নপত্র ছাপা ও বিতরণের বিষয়য়ে কোন সভাও করে নাই। এভাবে খোলামেলা বিতরণের কোন নিয়ম আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, এভাবে প্রশ্নপত্র বিতরণের নিয়ম নেই। আমরা যতটুকু জানি শিক্ষা অফিস থেকে আমাদেরকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সরবরাহ করবে। তবে এমনভাবে সরবরাহ করার কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান ওই শিক্ষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় দুপুরে পৌর শহরের সড়ক বাজারের কয়েকটি ফটোকপির দোকানে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করা হয়। অরক্ষিত অস্থায় প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না এ ব্যপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা শিক্ষকদের নৈতিকতার ব্যাপার।
তিনি রাগান্বিতভাবে বলেন, আপনি ওখানে কেন গেলেন ওখানে আপনি ছবি তুলতে পারেন না। ফটোকপির দোকানে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করা হয়েছে এ কথা বলার পর তিনি বলেন প্রধান শিক্ষকদের সাথে মাসিক সমন্বয়সভায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশ্ন ফাঁস। এটা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চরম কুঠারাঘাত। এর কারণে শিক্ষাব্যবস্থার সব ইতিবাচক অর্জন বিনষ্ট হতে চলেছে। এ প্রশ্ন ফাঁস আজ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।
বাবু/জেএম