সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সুলতানপুরের প্রিয়াংকা হালদার

স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি

সারাবাংলা

সত্যিকারের শিক্ষা থাকলে কর্মের অভাব হয় না। যার বাস্তব প্রমাণ দিয়েছে স্বরূপকাঠির সুলতানপুর গ্রামের আশুতোষ হালদারের কন্যা প্রিয়ংকা

2023-08-23T18:13:07+00:00
2023-08-23T18:13:07+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সুলতানপুরের প্রিয়াংকা হালদার
স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩, ৬:১৩ পিএম   (ভিজিট : ১১০২)
X

সত্যিকারের শিক্ষা থাকলে কর্মের অভাব হয় না। যার বাস্তব প্রমাণ দিয়েছে  স্বরূপকাঠির সুলতানপুর গ্রামের আশুতোষ হালদারের কন্যা প্রিয়ংকা হালদার।  এক এক করে তিনটি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখন প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজে কর্মরত। ৪১তম বিসিএস এ সহকারী বন সংরক্ষক পদে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। এবং বর্তমানে ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় ভাইভার জন্য মনোনীত। সবই সম্ভব হয়েছে পিতা আশুতোষ হালদার এর সততা, আদর্শ এবং কঠোর পরিশ্রম ওর তার বড় ভাই উজ্জ্বল হালদার এর সহযোগিতায়।

জানা যায়, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলা সুলতানপুরের প্রিয়াংকার হালদার। বাবা আশুতোষ হালদার পেশায় একজন কর্মকার। ১৯৬৭ সাল থেকে স্বরূপকাঠির বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। তার দুই ছেলে এবং একটি মেয়ে। স্বরূপকাঠি ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে তার বাড়ি। প্রিয়াংকার এই সাফল্যে সুলতানপুরে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। 

প্রিয়াংকার বাবা আশুতোষ হালদার বলেন, মেয়ে আমার ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় আগ্রহী ছিলেন। সংগীতকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয় লেখা পড়া করেছে প্রিয়াংকা। গ্রামেই কেটেছে তার  স্কুল জীবন। আমার আর্থিক অসচ্ছলতা সঠিক গাইডলাইনের অভাবে ওর এএসসি রেজাল্ট আশানুরূপ হয়নি। পরে আরেফিন স্যারের সহযোগিতায় বরিশালে অমৃতলাল কলেজে  ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি হয় এবং ভালো রেজাল্ট করে। উচ্চ শিক্ষার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে বড় ভাইয়ের সাথে ঢাকা যায়। সেখানে ২০১১-১২ সেশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়। সিজিপিএ- ৩.৬৪ নিয়ে বিএসসি এবং সিজিপিএ- ৪.০০ নিয়ে এমএসসি কমপ্লিট করে। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ৪০তম বিসিএস থেকে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে স্বরূপকাঠি কলেজে কর্মরত আছে।

প্রিয়াংকা হালদার এর চাচা পরিতোষ হালদার বলেন, আমার ভাইজি লেখাপড়া করে যে বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে সেজন্য ওর চাচা হিসাবে গর্বিত আপনারা সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।

প্রিয়াংকার বড় ভাই উজ্জ্বল হালদার বলেন, ওর জন্য আপনারা সকলে দোয়া করবেন, ওর সাফল্যের পেছনে সর্বপ্রথম বাবা মায়ের অবদান বেশি ছিলো। এর পরে ওর ইচ্ছে ছিলো বড় কিছু হওয়া, মূলত ওর ধৈর্য  ইচ্ছেশক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম করেছে বলেই এই সফলতা। আমি ওর বড় ভাই হিসেবে আর্থিক সাপোর্ট দিয়েছি মাত্র। ওর জন্য সকলে দোয়া করবেন। 

প্রিয়াংকার এই সাফল্য নিয়ে কথা হয় তার সাথে সে জানান, আমি খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে। আমার বাবা মা, তিন ছেলে-মেয়েকে অনেক কষ্টে লেখাপড়া করিয়েছেন। আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত একটা অঞ্চল থেকে উঠে এসে এই জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা খুব সহজ ছিলো না। 

প্রিয়াংকা আরও জানান, পরম সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, পরিবার-প্রিয়জন নিয়ে ভাল আছি। প্রিয়াংকা হালদার নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বেলন, লক্ষ্য স্থির করুন, সময়কে কাজে লাগান, প্রতিকূলতা থেকে মনে শক্তি যোগান। ধৈর্য, চেষ্টা, রুটিন ও জেদ - এই চারটা জায়গায় যে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে, সফলতা তার কাছে এসে ধরা দিবে। 

স্বপ্ন যদি হয় বিসিএস, পড়ার টেবিলের সামনে বড় করে লিখে রাখুন ‘আমি ক্যাডার হবো, আমিই পারবো।’

বাবু/জেএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy