নভেম্বরে খুলছে মহিউদ্দিন চৌধুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

কামরুজ্জামান রনি, চট্টগ্রাম

সারাবাংলা

চলতি বছর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে খুলে দেওয়া হবে চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ইতিমধ্যে এটিকে সাবেক মেয়র প্রয়াত

2023-08-31T19:12:58+00:00
2023-08-31T19:20:13+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নভেম্বরে খুলছে মহিউদ্দিন চৌধুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
কামরুজ্জামান রনি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৩, ৭:১২ পিএম  আপডেট: ৩১.০৮.২০২৩ ৭:২০ পিএম  (ভিজিট : ৫৪১)
X

চলতি বছর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে খুলে দেওয়া হবে চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।  ইতিমধ্যে এটিকে সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলেও বিভিন্ন স্থানে উঠানামা (র‍্যাম্প) করার সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পটি নগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ১৬ কিলোমিটার উড়াল সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। নানান জটিলতার কারণে ইতিমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন মাস পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সিডিএ'র বোর্ড সভায় এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নাম প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক একাধিকবারের মেয়র, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, এখন পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হয়েছে ৮২ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী অক্টোবরে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন হবে৷ সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বন্দর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। কেন র‍্যাম্প ছাড়াই উদ্বোধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যেহেতু টানেল ব্যবহার করে দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রান্ত থেকে যে-সব যানবাহন চট্টগ্রাম নগরীতে আসবে, একই ভাবে নগর থেকে যারা টানেল ব্যবহারের মাধ্যমে অপর প্রান্তে যাবেন তাদের উভয়ের যাতায়াতের সুবিধার কথা ভেবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া এখানে টেকনিক্যাল একটি বিষয়ও জড়িত৷ মূল উড়াল সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন না হলে র‍্যাম্প নির্মাণ করা যাবে না। তাছাড়া র‍্যাম্পের কাজ শুরু হলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানজটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়ে গেলে নিচের মূল সড়কে চাপ কিছুটা কমবে। তখন র‍্যাম্পের কাজ করা তুলনামূলক সহজ হবে। 

 সরেজমিন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ এলাকা ঘুরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চোখে পড়েছে৷ এখন তিনটি অংশে ভাগ করে চলছে মূল উড়াল সড়ক নির্মাণের কাজ৷ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি লালখান বাজার থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত  বেশ কিছু কাজ বাকী থাকলেও পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত উড়াল সড়কটি এখনই গাড়ি চলাচলের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। মাঝে দেওয়ান হাট ফ্লাইওভারের পাশ দিয়ে রেল লাইনের ওপর উড়াল সড়ক নির্মাণ নিয়ে রেলওয়ের সাথে কিছুটা জটিলতা দেখা দিলেও সেই জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত মাথা তুলে দাঁড়িয়ে গেছে মূল সড়কের পিলার গুলো। দেওয়ানহাট হাট থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত অংশে চলছে বক্স গার্ডার বসানোর কাজ। অন্যদিকে সল্টগোলা থেকে বারেক বিল্ডিং পর্যন্ত কাজ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে। 

চট্টগ্রাম নগরীর মূল লাইফ লাইন হিসেবে বিবেচিত এই উড়াল সড়কের নীচের সড়কে যানবাহন চলাচল বাধা গ্রস্থ না করে এতো বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়াটিও ছিলো আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ৷ বিশেষ করে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেড ও বিমান বন্দর সড়কে নির্মান কাজের পাশাপাশি যানচলাচলের সুযোগ রাখতে এই নির্মান কাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে৷ বিশাল এই উড়াল সড়কের গার্ডার গুলো পূর্বেই নির্মান করে রাখা হয়৷ পরে সেগুলোকে পিলারের ওপর বসানো হয়েছে৷ ঝুঁকি এড়াতে এসব কাজ বেশীর ভাগই রাতের বেলা করা হয়। 

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী  মাহফুজুর রহমান বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, জুলাই মাসে টানা বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকদিন কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে বর্তমানে সব পিলারের কাজ আমরা শেষ করে ফেলেছি, এখন সে গুলোতে গার্ডার বসানোর কাজ চলছে।" বৃষ্টি হলে পিলারে গার্ডার বসানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সতর্কতার সাথে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রেখে এই কাজ অব্যহত আছে। আশা করি মূল উড়াল সড়কটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে। 

১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ১৪টি র‍্যাম্প থাকবে যেগুলোর সাহায্যে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে যানবাহন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠানামা করতে পারবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জিইসি প্রান্তে একটি,টাইগারপাসে দুটি,আগ্রাবাদে চারটি,বন্দর সংলগ্ন ফকিরহাটে একটি, নিমতলায় দুটি,সিইপিজেডে দুটি এবং কেইপিজেড এলাকায় দুটি র‍্যাম্প থাকবে। বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে চারটি র‍্যাম্পের মধ্যে জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর সড়কে একটি, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার সড়কে একটি এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোড় প্রান্তে দুটি র‍্যাম্প রাখা হবে৷ 

১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে ইপিজেড বন্দর, বারেক বিল্ডিং, চৌমুহনী হয়ে দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের পশ্চিম দিক দিয়েদিয়ে রেল লাইনের ওপর দিয়ে টাইগার পাস মোড়, লালখান বাজার মোড় হয়ে ওয়াসার মোড়ে গিয়ে যুক্ত হবে৷ মূল উড়াল সড়কটি লালখান বাজারে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সাথে যুক্ত। এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে৷ তবে এর জন্য গুনতে হবে নির্দিষ্ট অঙ্কের টোল।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy