প্রকাশ: সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৭:০৫ পিএম (ভিজিট : ২৭৪)
X
চুরি করতে এসে ঢাকার কেরানীগঞ্জে সদরুল আলম (৪০) নামে এক প্রকৌশলীকে খুন করার ২২দিন পর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আল আমিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার)।
তিনি জানান, নিহত প্রকৌশলী সদরুল আলম ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে ৪তলায় ভাড়া থাকতেন। গত ১২ আগস্ট রাতে গ্রেফতারকৃত আল-আমিন চুরি করার উদ্দেশ্যে পাশের বিল্ডিং দিয়ে সদরুল আলমের ফ্লাটে প্রবেশ করে এবং শুভ ও রিমন হোসেন বাহিরে অবস্থান করে। এসময় শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠে আল আমিনকে ধরে ফেলেন সদরুল। তখনই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। পরের দিন গত ১৩ আগস্ট, কেরানীগঞ্জের আরশিনগরের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে প্রকৌশলী সদরুল আলমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বন্ধ ফ্ল্যাটে নৃশংসভাবে সদরুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেরানিগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন তার বড় বোন রেবেকা সুলতানা (৪৫)। এরপর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার তিন আসামি। ছবি: বাংলাদেশ বুলেটিন
ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম (অপরাধ দক্ষিণ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহবুদ্দিন কবির ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশিদের নেতৃত্বে গত রোববার একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আল আমিন'সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরও জানান, এরা সবাই পেশাদার চোর। বাসাটির সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় কিভাবে প্রকৌশলী সদরুল আলমের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে আল-আমিন। এর পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানেও আল আমিনকে চুরি করতে দেখা যায়। এসব বিশ্লেষণ করেই সদরুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানান ঢাকার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন-অর রশীদ বলেন, নিহত প্রকৌশলী সদরুল আলমের বাড়ি রংপুরে। আরশিনগরের ইউনুস মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে একবছর ধরে একাই থাকছিলেন বলে জানান তিনি।