প্রকাশ: শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৮:১৬ পিএম (ভিজিট : ২৩৬)

X
নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে ১০ জন। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরা উপজেলার মরজালের শিমুতলী এলাকায় বাস ও সিএনজির সংঘর্ষে সিএনজির ৩ যাত্রী নিহত হয়। আর আহত হয় আরও ৩ জন।
পরে শনিবার রাত ২টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার শ্রীফুলিয়া এলাকায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা- ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়। এসময় আহত হয়েছে আরও ৭ জন। খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ।
রায়পুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের বড়চর গ্রামের মো. কাসেম মিয়ার স্ত্রী দোলনা বেগম (৫৫), তার নাতি আরিয়ান (৭) ও বেলাব উপজেলার ধুকুন্দি গ্রামের রানা মিয়া (১৮)। শিবপুরে নিহতরা হলেন মাইক্রোবাসের চালক নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার সাবদীবাজার এলাকার সুভাস চন্দ্রের ছেলে সাগর চন্দ্র (৩২), চাঁদপুর জেলার মতলব থানার মুন্সীরকান্দি গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এফাজুল হক (৫০) ও তার ছেলে মোস্তাকিম (১৮)।
আর আহতরা হলেন নিহত এফাজুল হকের স্ত্রী মুক্তা আক্তার (৪৫), ছেলে আশরাফুল প্রধান (১৪), মেয়ে ইলমা আক্তার (১২), মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার ফারুক হোসেন (৫০), হাসিদা বেগম (৪২), সানজিদা আক্তার (১৬) ও নূর মোহাম্মদ (৭)।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাতে রায়পুরার মরজাল থেকে ৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি ভিটি মরজাল যাচ্ছিল। সিএনজিটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরা উপজেরার মরজাল শিমুলতলী এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ওই সময় ঘটনাস্থলেই এক নারীসহ সিএনজিতে থাকা ৩ যাত্রী মারা যায়। আহত হয় আরও ৩ জন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। খবর পেয়ে ভৈবর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাসে করে দুটি পরিবার সিলেটে মাজার জিয়ারতে গিয়েছিল। জিযারত শেষে তারা শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ফিরছিল। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরের শ্রীফুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত থেকে আসা সিলেটগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আর ঘটনাস্থলেই চালকসহ তিনজন নিহত হয়। পরে ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস।
ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের এস আই আবুল খায়ের বলেন, বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং এর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা ট্রাক ও মাইক্রোবাস জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছি। আর মরদেহগুলো নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনরা বিনা ময়নাতদন্তে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছে, অনুমতি পেলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাবু/জেএম