কালীগঙ্গায় অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন, নদীগর্ভে বিলীন কৃষি জমি

আমিনুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ

সারাবাংলা

ইজারার শর্ত অমান্য করে কালিগঙ্গা নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকিতে রয়েছে কালীগঙ্গা নদীর

2023-09-19T16:52:22+00:00
2023-09-19T16:52:22+00:00
শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২৬ ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২৬
   
কালীগঙ্গায় অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন, নদীগর্ভে বিলীন কৃষি জমি
আমিনুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৪:৫২ পিএম   (ভিজিট : ২৭৫)
X

ইজারার শর্ত অমান্য করে কালিগঙ্গা নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে  হুমকিতে রয়েছে কালীগঙ্গা নদীর দুইপাশের গুরুত্বপূর্ণ ২টি ব্রীজ, হাসপাতাল, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন  অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনে ইতিমধ্যে শতশত হেক্টর কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বহারা হয়ে পড়েছে ৩ গ্রামের হাজারও পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী চক্র ইজারার নামে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে কালীগঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্পট থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান করা হলেও তা বন্ধ হয়নি। 

সম্প্রতি জেলার পৌর এলাকার বেউথা বালু মহাল ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। এই বালু মহালেরই ইজারা পেয়েছেন মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম।

জানাগেছে, মানিকগঞ্জে ইজারার নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে কালিগঙ্গা নদীতে ড্রেজারে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। প্রতিদিন ৬টি ড্রেজার দিয়ে নদী পাড়ের কৃষি জমি ঘেঁষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে চরে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হবার পাশাপাশি তীরবর্তী পৌলি, আন্দারমানিক, চর বেউথা গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করছে।

স্থানীয়রা জানান, বালু মহলের ইজারা নিয়ে ৩ গ্রামের শতশত কৃষি জমি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী নেতারা। অতিরিক্ত বালু পাবার লোভে নদীর চর ঘেঁষে বালু উত্তোলন শুরু করে ইজারাদার। এমনকি সুযোগ বুঝে ড্রেজার লাগিয়ে  চর বেউথা, আন্দারমানিক, পৌলি চরের ফসলি জমির মাটি কেটে নিতে থাকে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে ফেলার কারণে চরে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে নদীর তীরবর্তী চর বেউথা, আন্দারমানিক, পৌলি গ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয় গ্রামবাসীর মনে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পৌর এলাকার কালীগঙ্গা নদীতে কৃষকের ফসলি জমি ঘেঁষে ৬টি ড্রেজারের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই চরের বিশাল অংশের ফসলি জমি কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা অংশে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি ড্রেজার প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করে। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলিত হচ্ছে। এভাবে চর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করতে থাকলে খুব অল্প সময়েই চরের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে তীরবর্তী গ্রাম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,  প্রতিবছর  ধান, ভুট্টা,পাট, গম,  সরিষাসহ  নানান জাতের ফসল হতো এসব তিন ফসলী জমিতে।

চর বেউথা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, আমাদের ৩ গ্রামের ফসলি জমি কেটে নিচ্ছে বালু ব্যবসায়ীরা। সর্বহারা করে দিচ্ছে আমাদের পরিবারকে। আমাদের সেচ প্রকল্পের অর্ধেক জমি কেটে নিয়ে গেছে। এখন আমাদের ভিটে মাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় এসেছে। আমরা এই অবৈধ বালুকাটা বন্ধের দাবিতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। তবুও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে বালুকাটা। 

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমিরুল ইসলাম আক্কাস বলেন, প্রভাবশালী নেতারা ইজারার নামে আমাদের কৃষিজমি কেটে নিচ্ছে। যে জমিতে আমরা ইরি, ভুট্টা পাটসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। সেই জমি এখন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া আমাদের রয়েছে জোসেফ মেমোরিয়াল হসপিটাল, মসজিদ মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বপ্নের কালিগংগা ব্রীজ। এখন এইসব স্থাপনাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের ফলে ৩ গ্রামের শত শত  বিঘা কৃষি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। কৃষিজমি হারিয়ে এখন আমরা সর্বহারা। অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন বন্ধে আমরা এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী কাছে  জোর দাবি জানাচ্ছি। 

বেউথা বালু মহালের ইজারাদার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারকে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে বালু মহাল ইজারা নিয়েছি। নদী সিকস্তি জায়গায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছি। অবৈধভাবে কোন জায়গায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। 

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ্বর পাল বলেন, ইতিমধ্যে ওই এলাকায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান করা হয়েছে। শিগগিরই খোঁজখবর নিয়ে আবারো অভিযান চালানো হবে। এসব ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বাবু/জেএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy