প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৬:১২ পিএম (ভিজিট : ১৬৭৯)

X
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম এ হোসাইন দলীয় পদে থেকেও একজন সাচ্চা জামায়াত প্রেমি। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত সদ্য প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর একজন ভক্ত। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজ আইডি থেকে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার দিয়ে প্রচারও করেন যা তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে স্বীকার করেছে।
অভিযোগ আছে মূলত জামায়াত ঘরানার এই প্রবাসী মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর সহ-সভাপতি পদটি বাগিয়ে নেন। তবে তার ভিজিটিং কার্ডে তিনি নিজেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি উল্লেখ করেছেন। অবাক বিষয় এই কার্ডের ওপরের ডান কোনে শিক্ষা-শান্তি- প্রগতি লিখা যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মূলনীতি। স্থানীয়দের মতে উনি যে সাইনবোর্ড আওয়ামী লীগ এটাই তার বড় প্রমাণ।
দলীয় কোন কর্মকাণ্ডে তাকে দেখা না গেলেও এই ভিজিটিং কার্ড ব্যবহারে তিনি বিলম্ব করেন না। সাতকানিয়া আওয়ামী পরিবারের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, তিনি মূলত গা বাঁচাতে এখন এই সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। তিনি এতোটাই দানবীর যে জামায়াতের বায়তুল মালেও তিনি টাকা দেন।
এই বিষয়ে এম এ হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তো প্রবাসেই বেশী থাকি তাই দলীয়ভাবে সেভাবে সময় দিতে পারি না।” আওয়ামী লীগের কমিটির একজন সহ-সভাপতি হয়ে জামায়াত ইসলামের নেতা যুদ্ধাপরাধী প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পোস্টগুলো তিনি শেয়ার করেছিলেন বলে স্বীকার করেন। এর যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, “ভালো খারাপ জানাইতে হবে তো। নিজেও একটু দেখি।” ভালো জিনিস বুঝাতেই কি সাঈদীর ওয়াজগুলো শেয়ার করেছিলেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি হ্যাঁ সূচক জবাব দেন।
এই বিষয়ে সাতকানি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ মোতালেব সিআইপি এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এমন দ্বায়িত্বশীল জায়গায় বসে কেউ যদি এমন কাজে লিপ্ত থাকে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এম এ হোসাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নন তবে অনুমোদিত কমিটির ৫ নম্বর সহ-সভাপতি বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, সে যেই হোক। দলের নীতি আদর্শ আর গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজে যে-ই যুক্ত থাকবে তার বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই বিষয়ে কোনো ছাড় হবে না।