প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৬:৪২ পিএম (ভিজিট : ২১৯)

X
*সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তহশিলদারের মামলা
*এডিসি ও ইউএনও'র ঘটনাস্থল পরিদর্শন
নবীনগরের কেদারখোলা মৌজায় প্রতিদিন একাধিক বড় বড় ড্রেজিং মেশিনের মাধ্যমে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদী তীরবর্তী আশপাশের গ্রামগুলো বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অভিযোগ আছে, ইজারাদারের স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সরকারের শর্ত না মেনে সীমানা লঙ্গন করে ১০টি নির্ধারিত ড্রেজারের পরিবর্তে ১৫/১৬টি ড্রেজারের মাধ্যমে দিনেরবেলার পাশাপাশি রাতেও বালু উত্তোলন করছে।
এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে গত পরশু বীরগাঁও তহশিলদার ইজারাদারদের পক্ষ নেওয়ায় স্থানীয় জনতার হাতে লাঞ্ছিত হন। পরে তহশিলদার বীরগাঁওয়ের সাবেক চেয়ারম্যান কবির আহমেদনহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ এনে মামলা করেন।
এরকম উদ্ভুত উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গতকাল জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও নবীনগরের ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ নিয়ে কথা বলতে গত দুদিন ধরে যখনই কল দেই, ড্রেজিংয়ের ইজারা পাওয়া ইজারাদারের ফোন নম্বর বন্ধ পাই। তবে আজ তার মোবাইলে বহুবার কল ঢুকলেও, ইজারাদার সাগর আমার কল রিসিভ করেননি।
পরে ইজারাদারের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ লোকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এরা নাকি সরকারের কাছ থেকে যেসব শর্তে প্রায় আড়াই কোটি টাকার বিনিময়ে নদী থেকে মাটি কাটার (বালু উত্তোলন) ইজারা পেয়েছে, সেইসব শর্ত মেনেই তারা বালু তুলছে! সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বললে, তাদের পক্ষ থেকেও এরকমটাই বলা হয়।
এদিকে বালু তোলার সঙ্গে জড়িত একজন পার্টনার বলেন, এই বালু উত্তোলনের ব্যবসা খুবই লাভজনক। প্রতিদিনই নাকি লাখ লাখ টাকা এই বালু ব্যবসা থেকে আয় আসে। তাই এই ব্যবসার সঙ্গে নবীনগরের বড় বড় প্রভাবশালী রাঘব বোয়ালরাও জড়িত আছেন।
এ অবস্থায় সরকারের কাছে এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেন নদী ভাঙ্গনের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর হাতিয়ার এই বালু উত্তোলনের ইজারা অচিরেই চিরতরে বাতিল/বন্ধ ঘোষণা করেন। তা না হলে, অপরিকল্পিত এ বালু উত্তোলনে মেঘনা নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা।
বাবু/জেএম