
X
বিগত কয়েক মাস যাবৎ রাজশাহী জেলা ডিবি ভিন্ন ভিন্ন কারণে বড় ধরনের অভিযান থেকে বলতে গেলে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজশাহী জেলা পুলিশের নয়া পুলিশ সুপার সাইফুর রহমানের (পিপিএম) দিক নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সনাতন চক্রবর্তীর সার্বিক প্রচেষ্টায় সেই ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ। বলতে গেলে রাজশাহী জেলা ডিবি চলতি মাসে যে সকল অভিযান চালিয়েছে নি:সন্দেহে তা প্রশংসার দাবিদার।
সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী ডিবি পুলিশ গত কয় দিন আগে অর্থাৎ ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের বৃহস্পতিবার রাতে ৫০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদকের গডফাদার শহিদুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শহিদুল ইসলামের (৪৫) বাড়ি রাজশাহী জেলার বাঘা থানার পাকুড়িয়া গ্রামে। তার বাবার নাম জামালের। মাদকের গডফাদার শহিদুল দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ এই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলা ডিবির পুলিশের এসআই নাসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিশেষ দক্ষ এসআই দাউদ, এএসআই মুক্তার, এএসআই হুজুর আলী এবং কন্সটেবল নাহিদ, মান্নান, মিঠুনের সমন্বয়ে গঠিত টিম ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রি. রাত ৩টার দিকে রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন পানিকামড়া বাজার ও তার সন্নিহিত এলাকায় মাদক উদ্ধারের জন্য গোপনে ওত-পেতে ছিলো।
এমন সময় রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন পাকুড়িয়া গ্রামস্থ এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদকের গডফাদার শহিদুল ইসলাম এর বসতবাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার ওপর অত্র এলাকায় ফেন্সিডিল বিক্রি ও হস্তান্তর করছিলো। এমন সময় উৎঁপেতে থাকা রাজশাহী জেলা পুলিশের এসআই নাছিম উদ্দিন ও সঙ্গীয় ফোর্স রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন।
এতে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টার সময় রাত ০৩:৫৫ মিনিটে শহিদুল ইসলামকে ধরে ফেলে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে জেলা ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে মাদকের গডফাদার শহিদুলের দেখানো মতে তার বসতবাড়ির প্রবেশ গেইটের পূর্বপার্শ্বে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে রক্ষিত সর্বমোট ৫০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষন হয় রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ। উক্ত ঘটনায় গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার বাঘা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এ একটি মামলা রুজু হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম একজন চিহ্নিত মাদককারবারি এবং তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে রাজশাহী জেলার বাঘা থানায় ৮ টি অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসী মামলা রয়েছে।
এছাড়াও গত ২৬/০৮/২০২৩ তারিখে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সনাতন চক্রবর্তীর নির্দেশনায় রাজশাহী জেলা ডিবির এসআই নাছিম উদ্দিন ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ সন্ধ্যা ০৬:৫০ টার দিকে মোহনপুর থানাধীন সাকোয়া গ্রামস্থ পলাতক আসামি মনারুল ইসলাম শাহের বসত-বাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে মনারুল ইসলাম শাহের ফেলে যাওয়া একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে ০২ টি কালো পলিথিনের মধ্যে মোড়ানো অবস্থায় ০৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে রাজশাহী জেলার ডিবি পুলিশ। উক্ত ঘটনায় নিজ হেফাজতে অবৈধ গাঁজা রাখার অপরাধ করায় পলাতক অভিযুক্তের নামে রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১টি মামলা দায়ের করে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ।
এদিকে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের বিষয়ে চারঘাটের রাওথা গ্রামের মাস্টার মহসিন বলেন –মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে আমাদের এই অঞ্চল অনেকটাই মাদকমুক্ত। তবে আরোও কিছুদিন অভিযান চলতে থাকলে অচিরেই রাওথাসহ আশেপাশের গ্রামগুলো অনেকটাই মাদকমুক্ত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে বাঘা সিমান্তের আলাইপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার মকসেদ গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাজশাহী বাঘা আলাইপুর সীমান্তে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের এসআই নাসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বেশ কিছু মাদকবিরোধী সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিধায় মাদক বিক্রি ও সেবন বিক্রি অনেকটাই কমে গিয়েছে বললেই চলে। তবে অভিযান চলমান থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মোহনপুর থানার অধিবাসী সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা বেলাল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান – রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের ও মোহনপুর থানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযানের ফলে অত্র এলাকায় অটোরিকশা চুরি, ছিনতাই ও হেরোইন বিক্রি অনেকাংশে কমে গিয়েছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের ২/১ জন নীতিভ্রষ্ট অফিসার কিছু কিছু অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অত্র দপ্তরের ২/১ অফিসার মাদক সিন্ডিকেটের সাথে সক্ষতা গড়তে সক্ষম হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে সুশীল সমাজের নীতি নির্ধারকরা বলছেন – সর্ষের ভেতর ২/১টি ভূত থাকবেই তবে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশের অংশীদ্বারত্বমূলক ও ইতিবাচক কাজের সুনাম করতেই হবে। সেই সাথে রাজশাহী জেলা ডিবির এই ধারাবাহিক সুনাম অক্ষুন রাখতে তদন্ত সাপেক্ষে দূর্নীতিবাজ সেই একজন অফিসারকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাও রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
বাবু/জেএম