প্রকাশ: রোববার, ৮ অক্টোবর, ২০২৩, ৭:৩৯ পিএম আপডেট: ০৮.১০.২০২৩ ৮:৪০ পিএম (ভিজিট : ১৮৯)

X
ঢাকার কেরানীগঞ্জে গত ১অক্টোবর ছুরিকাঘাতে খুন হয় সবজি ব্যবসায়ী শুক্কুর। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৫জনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ, ডিএমপি ও রাজশাহীতে টানা ২৪ঘন্টা অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ইমন (২৫), রুবেল (৩২), দীপু (২২), মন্টু (২০) ও হানিফ (২৮)।
রোববার (৮অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার)।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন ভোরে নিহত শুক্কুর সবজি কেনার উদ্দেশ্যে পুরান ঢাকার শ্যামবাজার এলাকায় কাঁচামালের আড়তে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা খালপাড় এলাকায় পৌঁছালে একদল কিশোর গ্যাং সদস্যরা মাদকের টাকার জন্য তাকে গতিরোধ করে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে তার কাছে থাকা ত্রিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৯৯৯এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
এ ঘটনায় ঐদিন বিকেলে নিহতের পিতা শেখ ওয়াজউদ্দিন (৬৫) বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা সুত্র ধরে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম ও কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবীরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত টিম নৃশংস ও ক্লু-লেস এই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ব্যাপক তদন্ত কার্য়ক্রম শুরু করে।
তদন্ত টিম ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সিসিটিভি ফুটেজ ও ক্রাইমসিন হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহ জামানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) হিরন কুমার, এসআই (নিঃ) সাহদুজ্জামান ও এসআই (নিঃ) নির্মল কুমারের সমন্বয়ে একটি চৌকস দল ঢাকার কেরানীগঞ্জ, ডিএমপি ও রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে ৫জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা সবাই মাদকাসক্ত এবং পেশাদার ছিনতাইকারী। ছিনতাই করা টাকা দিয়ে তারা মাদক সেবন করে থাকে। ঘটনার দিন মাদকের টাকা জোগার করার উদ্দেশ্যে আসামীরা সারারাত ছিনতাই করার জন্য টার্গেট খুজঁছিলো। কিন্তু সারারাত তারা কোন সহজ টার্গেট খুজে পায়নি। এক পর্যায়ে ভোর বেলায় তারা বেশ উগ্র হয়ে যায়। এমন সময় সবজি ব্যবসায়ী শুক্কুর রিক্সায় করে সবজি কেনার উদ্দেশ্যে আমবাগিচা খালপাড় রাস্তা দিয়ে ঢাকার শ্যামবাজার সবজির আড়তে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ইমন ও রুবেল শুক্কুরের রিক্সার গতিরোধ করে। রুবেল রিক্সা আটকে রাখে এবং ইমন সবজি ব্যবসায়ী শুক্কুরকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে। এসময় দিপু, মন্টু ও হানিফ রাস্তা পাহারা দিচ্ছিল যাতে কোন লোক দেখে না ফেলে।