
X
ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার গৃহস্থালির বর্জ্য। এর বিষক্রিয়ায় সড়কের পাশের বেশ কয়েকটি গাছ মরেছে। এছাড়া পুরো এলাকায় দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়কে চলাচলকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ বেতারের মহাশক্তি প্রেরণ কেন্দ্র ধামরাই সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের পাশে ধামরাই পৌরসভার একটি ট্রাকে করে আনা ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার তিনজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ট্রাক থেকে ময়লা নামানোর কাজ করছেন।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বলেন, সকাল থেকে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা সংগ্রহের পর পৌরসভার ট্রাকে করে তা দুই থেকে তিন দফায় মহাসড়কের এ জায়গায় ফেলা হয়।
ময়লা আনার কাজে ব্যবহৃত ট্রাকের চালক মো. মাসুম বলেন, প্রতিদিনই এখানে ময়লা ফেলা হয়। দিনে দুইবার কখনো তিনবার ফেলতে হয়।
সড়কের পাশে ফেলা বর্জ্যের কারণে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ময়লার উটকো গন্ধে বাড়িতেও থাকা যায় না। এগুলা দেখারও কেউ নেই।
সড়কে চলাচল করা অনেককেই ওই এলাকা পার হওয়ার সময় নাক চেপে ধরে রাখতে দেখা যায়।
ধামরাইয়ের বারবাড়িয়া থেকে সাভারের জাহাঙ্গীরনগরে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম রিফাত জানান, গন্ধের কারণে খুব কষ্ট হয়। ওই এলাকার বাতাসে সবসময় ওই দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে বর্জ্যের বিষক্রিয়ার কারণে সড়কের পাশের ১২টি কড়ই জাতীয় গাছ শুকিয়ে মরে গেছে।
ধামরাই উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মোতালিব আল মোমিন জানান, বর্জ্যের তরল গাছ শুষে নিলে ওই গাছ মারা যায়। পৌরসভার কর্তৃপক্ষকে বলেছি, যাতে সেখানে ময়লা না ফেলা হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা জানান, আমি বুধবার এখানে যোগ দিয়েছি। মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ধামরাই পৌরসভার মেয়র গোলাম কবীর জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা কোনো জায়গা বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দ পেতে উপজেলার মাসিক সভায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ধামরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী জানান,জমি কিনে বা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমির ব্যবস্থা করতে হবে।
বাবু/এ.এস