প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৩, ১০:৪১ পিএম (ভিজিট : ৪৫৪)

X
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে এস আলম গ্রুপের পণ্যবাহী লাইটার জাহাজে চুরির অভিযোগ তুলে ফজলুল করিম শাকিল (২৩) নামে এক শ্রমিককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সকালে কর্ণফুলী নদীর কালারপোল ব্রীজের নীচ (এস আলম জেটি) থেকে শ্রমিক শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত শাকিল মিরসরাই থানার জোরারগঞ্জ সাহেদ ডি নগর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। শাকিল নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য।
চট্টগ্রাম নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফজলুল করিম শাকিল নামে আমাদের এক শ্রমিকের লাশ পুলিশ নদী থেকে উদ্ধার করেছে। আমরা যতটুকু জেনেছি গত পরশু (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শাকিল সহ আরো বেশ কয়েজন শ্রমিককে চুরির অভিযোগ তুলে বেধড়ক পিটিয়েছে এস আলম গ্রুপের লোকজন। এসময় জাহাজ থেকে পড়ে শাকিল নিখোঁজ হয়। জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ বুলেটিনকে আরো বলেন, “কয়েকজন শ্রমিকদের থানা পুলিশের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। শাকিলের লাশের ময়না তদন্তের জন্য আমরা এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল ফরেন্সিক বিভাগে আছি (দুপুর ৩ টা ১৫ মিনিট)। পুলিশের কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন জানার পর আমরা তার পরিবারের সাথে আলাপ করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবো।”
নিহত ফজলুল করিম শাকিল ভগ্নিপতি মো, বেলায়েত বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, “আমার শ্যালক শাকিল এমভি তরিবুল নাজাত -৩ জাহাজের সুকানী হিসেবে কর্মরত ছিল। গত পরশু রাত ১২টার পর কোন এক সময়ে এস আলম গ্রুপের পণ্যবাহী (চিনি) জাহাজে চুরির অভিযোগ তুলে এস আলমের সিকিউরিটি ইনচার্জ সহ একদল কোন শাকিলসহ অন্যান্যদের মারধর ও নির্যাতন চালিয়েছে। এসময় শাকিলকে জাহাজ থেকে নদীতে ফেলে বলে জানতে পেরেছি। সেই রাতে শাকিল যে জাহাজে কর্মরত ছিলো সেই জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ আজকের দিন অব্দি আমাদের কোন প্রকার সহায়তা করছেন না৷ এমভি তরিবুল নাজাত-৩ কারো সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত করা যাচ্ছে না৷”
মো. বেলায়েত আরো বলেন, শাকিলের সুরতহাল রিপোর্টে তার শরীরে আঘাতে চিহ্ন, রক্তাক্ত দেহ এবং মাথা ফেটে যাওয়ার চিহ্ন পেয়েছে। আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জানার পর অবশ্যই মামলা করবো।
এদিকে নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সকালে খবর পেয়ে নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শুনেছি লাইটার জাহাজে পণ্য চুরির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পাড়ে মারা গেছে এই যুবক। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত করছে থানা পুলিশ।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে কালার পোল সংলগ্ন এস আলম গ্রুপের গড়ে তোলা জেটি এলাকায় গেলে কেউ কিছুই জানেন না বলে জানান৷