প্রকাশ: রোববার, ২২ অক্টোবর, ২০২৩, ৪:৫৯ পিএম (ভিজিট : ১৭২)

X
শারদীয়া দুর্গোৎসবের রবিবার ছিল মহাষ্টমী। পূজার তিথি সকাল থেকে শুরু হওয়ায় দুপুরের আগেই মন্দিরগুলোতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ঢাক ও ঢোলের বাদ্য, শঙ্খ ও উলুধ্বনি আর পুরহিতের ঘন্টাধ্বনিতে পূজিত হন দেবী দুর্গা। সকালে নগরীর বিভিন্ন পূজামন্ডপে বিপুলসংখ্যক পূজারিকে অষ্টমী পূজায় অঞ্জলি দিতে দেখা দেখা যায়। এছাড়া মন্দির ও মন্ডপ প্রাঙ্গণ ভক্ত সমাগমে মুখরিত হয়।
নতুন পোষাকে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সীদের উপস্থিতিতে নগর-গ্রাম উৎসব মুখর হয়ে ওঠে। দিনের পূর্বাহ্নেই ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্ন হলেও দিন ভর প্রতিমা দর্শনে মন্দির থেকে মন্দিরে ঘুরেছেন দর্শনার্থীরা। দূর-দূরন্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসেছেন প্রতিমা দর্শনে। এছাড়া বেলা ১২টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর বিকাল ৪টার পর প্রতিটি মন্দিরে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা আরতী।
নব তরুণ সংঘ পূজা উদ্যাপন কমিটির মন্ডপে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে। পাঁচ বছরের সৃষ্টি মন্ডল নামের এক কন্যা শিশুকে সুভগা নামে দেবী রূপে পূজা করা হয়। পূজা শেষে তাকে মিস্টি, দুধ ও ফল খাইয়ে সন্তুষ্টু করা হয়। এসময় তার কাছে আশীর্বাদও চায় বক্তরা।
নব তরুণ সংঘ পূজা মন্ডেপের পুরহিত ধনঞ্জয় চক্রবর্তী লিটন বলেন, কুমারী পূজার দার্শনিক তত্ত¡ হলো নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। যে ত্রিশক্তির বলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় ক্রিয়া সাধিত হচ্ছে; সেই ত্রিবিধ শক্তিই বীজাকারে কুমারীতে নিহিত। কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক ও বীজাবস্থা। তাই কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপ করে তার সাধনা করা হয়। এ সাধনপদ্ধতিতে সাধকের নিকট বিশ্বজননী কুমারী নারীমূর্তির রূপ ধারণ করে; তাই তার নিকট নারী ভোগ্যা নয়; পূজ্যা। পৌরাণিক কল্পকাহীনিতে বর্ণিত আছে এ ভাবনায় ভাবিত হওয়ার মাধ্যমে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজের স্ত্রীকে ষোড়শীজ্ঞানে পূজা করেছিলেন। কুমারী পূজা হলো তন্ত্রশাস্ত্রমতে অনধিক ষোলো বছরের কুমারী মেয়ের পূজা। বিশেষত দুর্গাপূজার অঙ্গরূপে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এবছর খুলনা জেলায় এক হাজার ৪৪টি স্থানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে নগরীতে ১৩৫টি ও নয় উপজেলায় ৯০৯টি। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের রয়েছে কড়া নজরদারি। তিন স্তরের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে মন্দিরগুলোতে।