
X
শীতের শুরুতেই বরিশালে পাইকারি বাজারে যে দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে তার দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এতে বাজার করতে এসে চরম বিপত্তিতে পড়ছেন সব শ্রেণীর ক্রেতা। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বরিশাল নগরীর একমাত্র পাইকারি কাঁচামালের বাজার বহুমুখী সিটি মার্কেট ও খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।
পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্যে পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর বাংলাবাজার এলাকার সবজি বিক্রেতা সৌরভ বলেন, পাইকারি মোকাম থেকে সবজি কেনার পর পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিক মজুরি দিয়ে আনতে হয়। তারপর বাজারে সবজি নিয়ে বসলে সেজন্য ভাড়া দিতে হয়। লাইটের জন্য আলাদা টাকা দিতে হয়। অনেক সময় সবজি নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের লোকসান গুণতে হয়। তাই খুচরা বাজারের সঙ্গে পাইকারি দরের তুলনা করে লাভ নেই।
বহুমুখী সিটি মার্কেট পাইকারি বাজারে ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা কেজি, টমেটো (ইন্ডিয়ান) ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৩৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া (দেশি) ২৫-৩০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, শসা ৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১৮০-২০০ টাকা, করোল্লা ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ২৫ টাকা, পেঁপে ১৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ২০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ১০-১৫ টাকা ও কাঁচকলা ১০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।
কিন্তু একই সবজি খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে। এর মধ্যে ফুলকপি ৮০ টাকা কেজি, টমেটো (ইন্ডিয়ান) ১২০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া (দেশি) ৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা কেজি, শিম ১৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৪০ টাকা, করোল্লা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি, পেঁপে ৩০ টাকা কেজি, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ টাকা ও কাঁচকলা ৩০ টাকা করে হালি বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর পোর্টরোড বাজারে বাজার করতে আসা ইমরান বলেন, যে হারে সব জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে তারপর একটু সবজি খাবো তাতে আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের না খেয়ে থাকার অবস্থা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো সবজি ৮০ টাকার নিচে নেই।
আরেক ক্রেতা আরাফত হোসেন শুভ বলেন, কোনো কিছুই আমাদের নাগালের মধ্যে নেই। মাছ-মাংসের যে হারে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তা এখন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সবজি একটু ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিল, তাও এখন দিন দিন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গেলে সব কিছু কিনে বাড়ি ফিরতে পারি না, এমন চলতে থাকলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে শীঘ্রই।
নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেট পাইকারি বাজারের দুলাল বাণিজ্যালয়ের ম্যানেজার আমিন শুভ বলেন, গত সপ্তাহে বন্যার কারণ উত্তরবঙ্গ ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি ছিল, তবে শীতের সবজি পুরোপুরি ভাবে আসলে দাম কিছুটা কমবে আশা করছি। এছাড়া ও তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সহজেই লোকাল সবজি ঢাকায় চলে যাওয়ার সামঞ্জস্য করতে গেলে অনেক সময়ই সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে।