প্রকাশ: বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০২৩, ৮:২১ পিএম (ভিজিট : ৪৭২)

X
কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পরমালী চৌধুরী পাড়া এলাকায় মো. আউয়াল হোসেনের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জমা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর শিকার হয়ে আচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, একই ইউনিয়নের বাসিন্দা সরকার পাড়ার মৃতঃ নছিয়ত উল্লার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক-এর সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের জমা-জমি নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলে আসছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবু বক্করের নেতৃত্বে, মোঃ মকবুল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে আব্দুস সালাম, মোঃ ঘেগা মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলাম, আহাদ আলীর ছেলে আলম মিয়া, আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে লুৎফর রহমান সহ আরো ১০/১২ জন অজানা ব্যক্তিদের নিয়ে রাতের অন্ধকারে তার ক্ষেতের চলতি মৌসুমের প্রায় ২০ মন পাকা ধান কেটে চুরি করে নিয়ে যায়, যার বর্তমান বাজার মূল্য ২৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করে জমি ভোগদাতা জাহাঙ্গীর আলম কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
জাহাঙ্গীর আলমের পিতা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তারা বলেন, এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত পাল্টা-পাল্টি মামলা হয়ে আসছে। এর মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিকের দায়েরকৃত একটি মামলায় জাহাঙ্গীর আলম রায় পায়। অপরাপর জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পেনাল কোডে একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমান মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় আবু বক্করের নেতৃত্বে রাতের অন্ধকারে পাকা ধান কেটে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার দায়ে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে আরও একটি কুড়িগ্রাম সদর থানায় এজাহার করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানা যায়, আবু বক্কর ও জাহাঙ্গীর দফায় দফায় পাল্টা-পাল্টি মামলার সুরাহা সুস্থ সমাধানের জন্য অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ গ্রাম্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শালিস বৈঠক করেন। তবে গ্রাম্য শালিস ও আদালতের রায়কে মানেনা আবু বক্কর এই মর্মে প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীর।
এ বিষয়ে আবু বক্করের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, আমার প্রতিপক্ষ জাহাঙ্গীর আলম আমাকে অহেতুক হয়রানীর শিকার করছে, আমি ধান কেটেছি সত্য, তবে রাতে নয় প্রকাশ্যে দিনের বেলা।
এ ব্যাপারে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, তাদের জমা-জমির মামলার বিষয় নিয়ে একাধিকবার সুস্থ সমাধানের জন্য আমার ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিস বৈঠক করেছিলাম। তবে উভয়ের বিমতের কারণে তা অসমাপ্তি রয়েছে। তবে বিজ্ঞ আদালত যাদেরকে রায় দিবেন আমরা তাদেরই হয়ে সমাধান করে দিবো।
উল্লেখ্য, চৌধুরী পাড়া ও সরকার পাড়ার সচেতন মহল উভয়ের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে সকলেই একই বাক্যে প্রকাশ করেন, বক্কর ও জাহাঙ্গীরের পাল্টা-পাল্টি মামলা, বিচার শালিস দ্রত সমাধান হওয়া উচিত। নইলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।