প্রকাশ: শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৩, ১২:০১ পিএম (ভিজিট : ২৪৪)

X
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস পরিবর্তন করে নতুন অফিসে নতুনরূপে কার্যক্রম শুরু করেছে। আগের অফিস গাজীপুর শহর জয়দেবপুরে ছিলো। এখনকার অফিস চান্দনা চৌরাস্তা পালের মাঠ এলাকায় অবস্থিত। আগের অফিসটি ছিল ভাড়া এবং অতি ছোট। গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আগে দীর্ঘ লাইন দেখা যেত। আগের অফিসের তুলনায় এখনকার অফিস ও কক্ষ তিন গুণ বেড়েছে। তার পাশাপাশি বেড়েছে সেবার মান, কমতে শুরু করেছে অফিসিয়াল খরচ। অন্য অন্য জেলার চাইতে, গাজীপুর অধিক জনবহুল এলাকা থাকার কারণে অফিসের কর্মকর্তাদের সেবা দিতে ব্যাহত হতো। সেবা গ্রহীতাদের লাইন ধরে দাঁড়াতে হতো দীর্ঘক্ষণ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার অবসান হবে বলে আশা করছেন সেবা গ্রহীতারা।
কয়েকজন গ্রহীতা সাংবাদিকদের বলেন, আজ থেকে কয়েক বছর আগে আমার পাসপোর্ট করতে দালালের সহযোগিতা ছাড়া পারিনি। দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করে আমার পাসপোর্টে ভুল হয়েছে। যা নিয়ে কোন কাজ আমি করতে পারিনি। পাসপোর্ট অফিসের এরকম বেহাল দশা থাকার কারণে, দীর্ঘদিন পাসপোর্ট অফিসে সংশোধনের জন্য আসিনি। তবে এখন পাসপোর্ট অফিসে এসে আমার ভুল ভেঙেছে, নাম সংশোধনের জন্য আবেদন করে অতি দ্রুতই আমার পাসপোর্ট এর সংশোধনী আমি পেয়েছি। এবং আমার পরিবারের অন্য সদস্যার পাসপোর্ট এর জন্য অনলাইনে আবেদন করে অতি দ্রুত পুলিশ ভেরিফাই কমপ্লিট হয়ে পাসপোর্ট আমার হাতে পৌঁছেছে। বর্তমানের অফিস পুরোটাই সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেখানে দালাল, ও অবৈধ টাকা-পয়সার কোন লেনদেন হচ্ছে না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তোলার কক্ষ আগের চেয়ে বেড়েছে এবং কর্মকর্তাও বেড়েছে যাতে করে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বর্তমানের সেবা পেয়ে আমরা উচ্ছ্বাসিত। এ সেবা দীর্ঘস্থায়ী করার আহবান করি।
ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে হেড অফিস থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে পাসপোর্ট সংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ই পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা বাস্তবায়ন করেছে। যাহা,আবেদন থেকে শুরু করে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই গ্রহীতা করতে পারবেন এবং দেখতে পারবেন। ই সেবা বাস্তবায়নের কারণে গাজীপুর সহ সকল জেলায় পাসপোর্ট ভোগান্তি কমেছে।
উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, অন্য অন্য জেলার চাইতে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা থাকার কারণে, পাসপোর্ট গ্রহীতাদের সংখ্যা অধিক বেশি। যে কারণে আগের অফিসের চাইতে এখনকার অফিস বড় করা হয়েছে। অল্প কয়েকদিনেই দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ লাইনের অবসান ঘটছে, বর্তমানে আমি দায়িত্ব নিয়ে, অফিসের আশেপাশে সেবা গ্রহীতা ছাড়া অন্য কোন লোকজন বা দালালের ঘোরাঘুরি বন্ধ করেছি। এছাড়াও প্রতিনিয়ত দালালদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন বরাবর চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। সেবার মান বাড়িয়ে সকল গ্রহীতাদের নিয়ে সুন্দর ঘোষ দুর্নীতি ও দালালমুক্ত পাসপোর্ট অফিস গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
অধিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ই-সেবা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বর্তমানে। সেবা গ্রহীতাদের কথা মাথায় রেখে কোন প্রকার জটলা ছাড়া, বাংলাদেশ পাসপোর্টের হেড অফিস ও উপ-পরিচালক স্যারের নির্দেশক্রমে কাজ করা হচ্ছে।
পাসপোর্ট অফিস ঘিরে এক উৎকণ্ঠায় থাকেন সেবা গ্রহীতারা, তাদের স্বস্তি ফেরাতে এবং দালালমুক্ত অফিস প্রাঙ্গণ তৈরি করতে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হবে জানালেন গাজীপুর জেলা প্রশাসন।