প্রকাশ: শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৩, ৭:২৪ পিএম (ভিজিট : ৩৮২)

X
চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু দিয়ে বাড়তি ওজনের ট্রেনের ইঞ্জিনের ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ২২০০, ২৯০০ ও ৩০০০ সিরিজের তিনটি ইঞ্জিন চট্টগ্রাম শহর প্রান্ত দিয়ে কালুরঘাট সেতু পার হয়ে বোয়ালখালী পর্যন্ত যাতায়াত করে।
ইতিপূর্বে এই সেতু দিয়ে ১১ এক্সেল লোডের ইঞ্জিন চলাচল করতো তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নকশা অনুযায়ী সেতুটিকে ১৫ এক্সেল লোড ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে আজ নতুন তিন ইঞ্জিন ট্রায়াল রান দিয়ে সেতুর ধারণ ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হলো।
শতবর্ষী পুরনো কালুরঘাট সেতুর ব্যবহার করেই বহুল প্রত্যাশিত কক্সবাজারে রুটে ট্রেনে চলাচল করবে। এই লক্ষ্যে বুয়েটের পরমর্শে কালুরঘাট সেতুটি সংস্কার করে বাড়তি ওজনের ট্রেন চলাচলের উপযোগী হয়েছে। আজ পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেনের ইঞ্জিন চলাচলের মাধ্যমে রেল কর্তৃপক্ষ আশাকরছে এই সেতু দিয়ে ট্রেন চলতে এখন আর বাধা রইলো না। ইতিমধ্যে রেলের প্রকৌশলীরা কালুরঘাট সেতুর যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। আগামী ১১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনের পর যাত্রীবাহি ট্রেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করবে।
কালুরঘাট সেতুর ফোকাল পারসন মো. গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, ‘আজকের ট্রায়াল রানে আমরা কোনো সমস্যা পাইনি। বলা যায় সফলভাবে ট্রায়াল রান শেষ হয়েছে। আশাকরছি কক্সবাজার রুটে এখন সব ধরনের ট্রেন চলতে পারবে।"
রেলের যান্ত্রিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে জানায়, আজ যেসন ইঞ্জিন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে সেগুলো বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ভারী মিটারগেজ ডিজেল লোকো। ক্ষমতার দিক দিয়েও এরা সবচেয়ে শক্তিশালী মিটারগেজ।
উদ্বোধনের আগে আগামী ৭ নভেম্বর সম্পূর্ণ ট্রেন অর্থাৎ ইঞ্জিন ও সকল বগীসহ ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত টেস্ট রান করা হবে। এর আগে রবিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন রওনা হবে। আটটি বগির নিয়ে যাওয়া এই ট্রেনটি হবে দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে ভ্রমণ করা প্রথম কোনো ট্রেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সাথে রেলওয়ের ৭ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়৷ এরপ্রেক্ষিতে বুয়েট পর্যবেক্ষক দল সেতু পরিদর্শন করে কালুরঘাট সেতু সংস্কারের পরামর্শসহ একটি প্রতিবেদন রেলওয়েকে প্রদান করে। সেই পরামর্শের আলোকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কালুরঘাট সেতুটিকে সংষ্কার করা হলেও বুয়েটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংস্কার করা এই সেতুটি আগামী ১০ বছর পর্যন্ত সার্ভিস দিতে পারবে৷
কক্সবাজার রেল প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন জানান, কালুরঘাট সেতুটির আগের এক্সেল লোড ছিল ১১। কিন্তু নতুন ইঞ্জিনের এক্সেল লোড ১৫। বুয়েটের পরামর্শ অনুযায়ী, সেতুতে এক্সেল লোড বাড়ানো হয়।
১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার।
শুরুতেই এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকায়। এতে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার। এটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতাভুক্ত।