
X
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) সংসদীয় আসনের একজন স্বতন্ত্রপ্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে গণমাধ্যমের কাছে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সাত্তার পালোয়ান মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বক্তব্য দেন তিনি৷ আবদুস সাত্তার সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর বাঁধ নির্মাণ আন্দোলনের একজন সংগঠক তিনি। তার বাড়ি জেলার কমলনগর উপজেলা মেঘনা নদী সংলগ্ন চর ফলকন এলাকায়। বিগত ১৩ বছর ধরে মাতৃভূমি রক্ষার আন্দোলন করে আসছেন এ আইনজীবী। তার আন্দোলনের ফসল হিসেবে মেঘনা নদীর প্রায় ৩১ কিলোমিটার অংশে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে বাপ-দাদার ভিটেমাটি রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনা ও প্রতিকূল পরিবেশে পড়েতে হয়েছে তাকে।
তাই বসতবাড়ি রক্ষার কথা বলতে এবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ চান 'রামগতি-কমলনগর বাঁচাও মঞ্চের' আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার। সেজন্য এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করবেন তিনি।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, মেঘনা নদীর একেবারে কূলে আমার পূর্ব পুরুষদের কবর। নদীর জোয়ারে পানিতে কবর তলিয়ে যায়। তাই পূর্ব পুরুষ কবরস্থান আর ভিটেমাটি রক্ষায় আমি নদী বাঁধ নিয়ে আন্দোলন করছি। আমার একটাই দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ। আমি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছি। আল্লাহ যদি আমাকে সম্মানিত করে, সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় তাহলে নদী বাঁধ রক্ষা নিয়ে সংসদে কথা বলার সুযোগ পাব। সংসদে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ দাবি থাকবে নদী রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন করা।
তিনি বলেন, নদী গর্ভে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি মাঠ বিলীন হয়ে গেছে। মানচিত্র থেকে রামগতি ও কমলনগর ছোট হয়ে যাচ্ছে। বিগত ২৫ বছর ধরে এ মেঘনার ভাঙনে প্রায় অর্ধেক বিলীন হয়ে গেছে। লক্ষাধিক মানুষ তাদের সবকিছু হারিয়ে সর্ব শান্ত হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও মাঠসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে সবচেয়ে বড় একটি প্রকল্প টেকসই বেড়িবাঁধের অনুমোদন হয়েছে। ২০২৪ সালের দিকে কাজের মেদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এখন ২০২৩ সাল শেষ, মাত্র ৮% কাজ হয়েছে। এ কাজের অনিয়মের শেষ নেই।
মূলত এসব প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সভাপতি হয়৷ এজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এমপি পদে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে দ্বাদশ সংসদ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
তিনি বলেন, ২০১১ সাল থেকে নদী ভাঙন রোধে আন্দোলন করে আসছি। মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন দোয়া অনুষ্ঠান করে আসছি। প্রায় শতাধিক কর্মসূচি পালন করছি। এসব আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে হুমকি এবং চক্রান্তের মুখে পড়তে হয়েছে।
বলেন, 'কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চ' একটি সামাজিক সংগঠন। এ সংগঠনের ব্যানারে, যখনই মানববন্ধন অথবা কোনো কর্মসূচির আয়োজন করি তখনই বাঁধা এবং হুমকি আসে। অনেকবার হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জীবনের ভয় নিয়ে এখন পর্যন্ত নদী ভাঙনরোধে আন্দোলন করে যাচ্ছি।
এদিকে নদী ভাঙা রোধ নিয়ে সংসদে যে প্রার্থী অবদান রাখতে পারবে তাকেই সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান মেঘনার উপকূলের বাসিন্দারা।
এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নৌকা প্রতীকের ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লা, জাসদের একজন ও সুপ্রিম পার্টির একজন প্রার্থীসহ আরও তিনজন স্বতন্ত্রপ্রার্থী।