প্রকাশ: শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৪:২৮ পিএম আপডেট: ০১.১২.২০২৩ ৪:৩২ পিএম (ভিজিট : ৪৩০)

X
৫ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫জন। কিন্তু সেখানে উপবৃত্তি পায় ২৩জন। ভূয়া ৮শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে উপবৃত্তির টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত নয়ানী বাগডোকরা শিমুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রাতারাতি ১৫জন ছাত্র-ছাত্রীর হাজিরা খাতাটি পরিবর্তন করে ২৩জন শিক্ষার্থীর নাম লিপিবদ্ধ করে নতুন হাজিরা খাতা তৈরী করেন।
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও স্লিপের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন উল্লেখিত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকগণ।
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয় কিন্তু উপবৃত্তির টাকা পায় শিক্ষার্থী কল্যাণী রানীর বাবা কৃত্তিবাস রায় বলেন, আমার মেয়ে আগে শিমুলতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তো। উপবৃত্তির টাকাও পেত। দুই বছর হলো অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছে। এখনো ওই স্কুল থেকেই ছয় মাস পরপর নয় শত টাকা করে উপবৃত্তি পায়। উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার সাথেসাথে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানকে তিনশত টাকা ভাগ দিতে হয়।
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র চয়ন রায়, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র যতন রায়, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হরিপ্রসাদ রায় জানায়, আগে তারা উপবৃত্তি পেত। এখন তারা আর উপবৃত্তি পায় না।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, কোন জানার থাকলে শিক্ষা অফিস থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে আসবেন। তারপর জানাবো।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের ক্লাস্টার উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস ছামাদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়। আগামী সপ্তাহে অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী বিধি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত চলছে। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।