প্রকাশ: সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৫:০৫ পিএম আপডেট: ০৪.১২.২০২৩ ৫:২৪ পিএম (ভিজিট : ২৪১১)

X
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দেয়া এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল, বিভিন্ন সেবা সংস্থার বিল বকেয়া ও আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনে চারজন করে আটজনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম-১২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বর্তমান সংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর শিক্ষা সনদ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী।
সোমবার (৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৫টি আসনের মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়েছে৷
জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে চট্টগ্রাম ৭, ১২ ও ১৪ আসনের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এসময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী মুজিবুল হক রিটার্নিং কর্মকর্তা কাছের হুইপ সামশুল ইসলামের শিক্ষাগত সনদ নিয়ে আপত্তি জানান। যদিও হুইপ সামশুর মনোনয়নটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই বিষয়ে আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন৷ এই বিষয়ে এডভোকেট মুজিবুল হক বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, সামশুল হক চৌধুরী যে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন সেখানে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এইচএসসি পাস। যে সনদটি দাখিল করেছেন, সেখানে কোন ক্রমিক নম্বর ও রোল নম্বর নেই। সনদে নম্বর থাকবেনা এমনা তো হওয়ার কথা নয়৷ এছাড়া তিনি বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে তার শিক্ষাগত স্ট্যাটাস দেখিয়েছেন বি-কম পাস। সব মিলিয়ে তার শিক্ষাগত সনদ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।" এক প্রশ্নের জবাবে এডভোকেট মুজিবুল হক বলেন, এখানে যেহেতু আপত্তি তোলা হয়েছে তাই কোনোভাবে আপিল না করার সুযোগ নেই। তবে আপিলের ব্যাপারে আমার প্রার্থীর সঙ্গে আলালের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জমা দেয়া ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিলের অভিযোগে প্রার্থী ইলিয়াস মিয়া ও গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এম এ মতিনের বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকায় এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় মনোনয়ন বাতিল হয়। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী এম ইয়াকুব আলীর মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়।
চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, খুলশী) আসনে চারজনের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি যে এক শতাংশ ভোটারের নাম ও স্বাক্ষর মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দিয়েছিলেন । এদের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটার যাচাই করা হয়। সেখানে তিনজন ভোটারকে শনাক্ত করা না যাওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল আমীন, মো. ওসমান গনি এবং বিএনএফের মঞ্জুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়।
এই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ আসনেও একজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করেন রিটার্ণিং কর্মকর্তা৷
চট্টগ্রামেএ ১৬টি আসনে সর্বমোট ১৫১ জন মনোনয়ন জমা দেয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের এই ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৩ লাখ ৯৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩২ লাখ ৭৯ হাজার ৬২ জন এবং নারী ভোটার ৩০ লাখ ২১ হাজার ৯০২ জন।