খুলনা জেলায় সরিষার আবাদ ৯২শতাংশ: উৎপাদন অর্ধলাখ মেট্রিকটন

খুলনা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ভোরের শিশির বিন্দু হলুদ ফুলের শরীর জুড়ে। সূর্য ওঠার সাথে সাথে শরীর থেকে শিশির কনা গড়িয়ে পড়ছে। সকালের

2023-12-26T13:00:27+00:00
2023-12-26T13:00:27+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
খুলনা জেলায় সরিষার আবাদ ৯২শতাংশ: উৎপাদন অর্ধলাখ মেট্রিকটন
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১:০০ পিএম   (ভিজিট : ২১৬)
X

ভোরের শিশির বিন্দু হলুদ ফুলের শরীর জুড়ে। সূর্য ওঠার সাথে সাথে শরীর থেকে শিশির কনা গড়িয়ে পড়ছে। সকালের সোনারোদ ঝলমল করছে হলুদ ফুল। খুলনা আঞ্চলের দিগন্ত জোড়া মাঠে হলুদ সরিষার ফুল। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। হলুদ আর হলুদ। সবুজ মাঠে হলুদের সমরোহ। দুপুর গড়িয়ে বিকেলের সিগ্ধতায় আলোয় যেন ঝলমল করছে। শিশু কিশোর হলুদ রংয়ে গা ভাসিয়ে আনন্দ উল্লাস করছে। পৌষের এই শীতের হিমেল মিষ্টি বাতাসে ডগাগুলো দোলখাচ্ছে। প্রকৃতি যেন নবরূপে সেজেছে। হলুদের মাঝে বসে রয়েছে ফিঙে পাখি। মৌমাছিরা এক গাছ থেকে অরেক গাছে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। মৌমাছিরা নৃতের তালে তালে গুন গুন করে মনের আনন্দে গান গাচ্ছে।   

সূত্র জানিয়েছেন, খুলনা কৃষি অঞ্চলের  জেলায় ২০২৩-০২৪ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে  সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রার ছিল ৩৯১৭০ হেক্টর। আবাদ করা হয়েছে ৩৫৮২৫ হেক্টর। কম আবাদ করা হযেছে ৩৩৫৫ হেক্টর।  উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০৫৯০ মেট্রিকটন । সেই হিসেবে খুলনা কৃষি অঞ্চলে ৯২শতাংশ আবাদ করা হয়েছে। প্রতি বছর আবাদ ও উৎপাদন বাড়েছে। গত বছর অর্জনের তুলনায়আবাদ হয়েছিল ১৩৬শতাংশ।

এই রবি মৌসুমে ঘুর্ণিঝড় মিথিলা ও মিগজাউমের কারণে আবাদ কম হয়েছে। এই ঝড়ের কারনে  জমিতে পানি জমে থাকায়  ৮ শতাংশ  আবাদ কম হয়েছে। শতভাগ পূরণ হয়নি। গোপালগঞ্জ-খুলনা- বাগেরহাট -সাতক্ষীরা-পিরোজপুর জিকেবিএসপি প্রকল্প মৃত্তিকা সম্পাদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে গোপলগঞ্জ ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৫০বিঘা  জমিতে প্রর্দশনী প্লট করেছে। আবাদ ও উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষকের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। প্রকল্প থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। 

সূত্র জানায় এই রবি মৌসুমে খুলনা জেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪০৪ হেক্টর।  আবাদ করা হয়েছে ২৩১৪হেক্টর জমি। উৎপাদনের হয়েছে ২৭৪১ মেট্রিকটন  । বাগেরহাট জেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১৪২ হেক্টর।  আবাদ করা হয়েছে ১৫৯৮হেক্টর জমি। উৎপাদন হয়েছে ২৬৯৯মেট্রিকটন । সাতক্ষীরা জেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১৭৬৭ হেক্টর। আবাদ করা হয়েছে ১৯০২৫হেক্টর জমি। উৎপাদন হয়েছে ২৮৯৫০মেট্রিকটন  এবং নড়াইল জেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৮৫৭ হেক্টর। আবাদ করা হয়েছে ১২৮৮৮হেক্টর জমি ও  উৎপাদন হয়েছে ১৬২০০মেট্রিকটন । 

গত রবি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলের ৪জেলায় সরিষা আবাদ করা হয়েছিল ২৬২৪৬ হেক্টর জমি ও উৎপাদন হয়েছিল ৩৩৩৩৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে খুলনা জেলায় আবাদ করা হয়েছিল ১৬৬৫ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ১৯০১মেট্রিকটন । বাগেরহাট জেলায় আবাদ করা হয়েছে  ১৩৩৬ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছিল ১৬৭৬ মেট্রিকটন । সাতক্ষীরা জেলায় আবাদ করা হয়েছিল ১৪০৩০ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে  ১৮২৩৯ মেট্রিকটন  এবং নড়াইল জেলায় আবাদ করা হয়েছে ৯২১৫হেক্টর জমি। উৎপাদন হয়েছে ১১৫১৯মেট্রিকটন । কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে সার ও সরিষার বীজ দেয়া হয়েছে। প্রণোদনা পেয়ে আবাদ ও উৎপাদন বেড়েছে।  এবছর অধিক ফলনশীল বারি-১৪, বারি-৯, বিনা ৯-১০,সরিষা- ১৫, সোনালী সরিষা (এসএস) স্থানীয় টরি- ৭ জাতের সরিষা আবাদ করেছেন কৃষক। শীতের রিক্ততায় হলুদ রং লেগেছে। প্রাণের সস্পন্দন নিয়ে আসে সরিষার ফুল। অনেকে হলুদের রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির মাঝে। প্রকৃতি সেজেছে নানান রংয়ে। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ করছে সরিষার ক্ষেত। অনেক ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করার জন্য বাক্স দেয়া হয়েছে। এতে দু’দিক থেকে অর্থনীতি ভাবে লাভবান হওয়া যাবে। 

গোপালগঞ্জ-খুলনা- বাগেরহাট -সাতক্ষীরা-পিরোজপুর জিকেবিএসপি প্রকল্প পরিচালক অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, সরিষা চাষ করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। ভালো দামে বিক্রি করা হবে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও বিক্রি করা হয়। কৃষক অর্থনৈতিক ভাবে ঘুরে দাড়িয়েছেন। প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কোন জমি পতিত রাখা যাবেনা। সে মোতাবেক কৃষকদের ফসল ফলাতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহন কুমার ঘোষ বলেন, দু’টি ঘুর্ণিঝড় হওয়ার কারনে আবাদ ও উৎপাদন একটু হয়েছে। তবে প্রতিবছর আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ করছে সরিষার ক্ষেত। অনেক ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করার জন্য বাক্স দেয়া হয়েছে। এতে দু’দিক থেকে অর্থনীতি ভাবে লাভবান হওয়া যাবে। কোন জমি পতিত না রাখার জন্য কৃষকদরে অনুরোধ জানিয়েছেন।   





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy