
X
সংবাদকর্মীর জীবন মানেই ব্যস্ততা, দায়িত্ব আর সময়ের সঙ্গে অবিরাম দৌড়। খবরের পেছনে ছুটতে ছুটতে কখন যে নিজের জন্য কিছুটা নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় হারিয়ে যায়, তা বোঝাই যায় না। অথচ মানুষ তো আনন্দ চায়, প্রাণ তো খোঁজে মুক্তির হাওয়া। সেই আনন্দের পরশই এনে দিল সাংবাদিক সমিতির আয়োজন—একটি ভ্রমণ, একটি মিলনমেলা, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত শুক্রবার, ১৫ আগস্টে।
জুমার নামাজের পর যাত্রা শুরু
দিনটির বিশেষত্ব শুরু হয় বিকেল থেকেই। জুমার নামাজ শেষে সমিতির সদস্যরা ধীরে ধীরে নির্ধারিত স্থানে এসে একত্রিত হন। কারও চোখে প্রত্যাশার আলো, কারও মুখে প্রাণখোলা হাসি। সবাই যেন আগেভাগেই আনন্দের রঙে ভিজে উঠেছিলেন। যখন যাত্রা শুরু করল, তখন থেকেই গল্প আর হাসির ঝরনায় ভরে উঠল পরিবেশ। শহরের কোলাহল ফেলে সবাই ছুটে চলল অজানার পথে, আনন্দের খোঁজে।
প্রকৃতির বুকে প্রশান্তির আবেশ
গন্তব্যে পৌঁছেই প্রকৃতির কোলে মিশে গেল সবাই। সবুজের স্নিগ্ধতা, আকাশের নীলিমা আর নদীর বাতাস যেন একসঙ্গে মিলে সৃষ্টি করল এক স্বপ্নরাজ্য। কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল, কেউ আবার নীরবে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করল।
আড্ডা আর গল্পে কেটে যাচ্ছিল সময়। মনে হচ্ছিল—এ যেন কোনো সাধারণ ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে এক নতুন পরিচয়, এক নতুন বন্ধুত্ব।
ভুরিভোজ: স্বাদের উৎসবে প্রাণের উচ্ছ্বাস
ভ্রমণের আনন্দকে পূর্ণতা দিল দুপুরের ভুরিভোজ। সুস্বাদু নানা পদ সাজানো ছিল —মাংস, ভাত থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী সব খাবার। একসঙ্গে বসে খাওয়ার মজা ছিল আলাদা। হাসি-আড্ডা, ঠাট্টা-তামাশার ফাঁকে ভুরিভোজ যেন হয়ে উঠেছিল এক উৎসব। খাওয়ার স্বাদ আর বন্ধুত্বের টান মিলে ভ্রমণকে করল আরও রঙিন।
মিলনমেলার আবহ
সাংবাদিক সমিতির এই ভ্রমণ শুধু খাবার আর প্রকৃতির সান্নিধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছিল প্রাণের মিলনমেলা। সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি, জুনিয়রদের প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহণ, সবার হাসি আর আনন্দ মিলেমিশে যেন গড়ে তুলেছিল এক পরিবার। গান, কবিতা, কৌতুক আর গল্পে ভরে উঠেছিল প্রতিটি ক্ষণ। সেদিন সময় যেন থেমে ছিল—শুধুই হাসি, বন্ধুত্ব আর আনন্দের রঙে।
ফিরে আসা: হৃদয়ে ভরা অমূল্য স্মৃতি
দিনশেষে যখন ফিরছিল শহরের পথে, ক্লান্তি থাকলেও কারও মুখে ছিল না কোনো অভিযোগ। বরং সবার চোখেমুখে ঝলমল করছিল সন্তুষ্টি আর আনন্দের আলো। প্রকৃতি, বন্ধুত্ব আর মিলনের সেই অভিজ্ঞতা হয়ে রইল সবার মনে অমূল্য স্মৃতি হয়ে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান বলেন— “সাংবাদিকতার কাজ সবসময়ই চাপের, এখানে সময়ের হিসাব নেই, বিশ্রামের সুযোগ নেই। সংবাদকর্মীরা প্রতিনিয়ত খবরের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজেদের জন্য আলাদা কোনো সময়ই বের করতে পারেন না। তাই এই ধরনের ভ্রমণ আমাদের মানসিক সতেজতা ফিরিয়ে আনে, সম্পর্ককে দৃঢ় করে এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি দেয়। সাংবাদিকদের জন্য শুধু সংবাদ সংগ্রহ নয়, বরং মাঝে মাঝে প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসাটাও অত্যন্ত জরুরি।”
সাধারণ সম্পাদক মোছা: জান্নাতী বেগম বলেন— “আমাদের পেশা অনেক কঠিন। প্রতিদিনের চাপ, দৌড়ঝাঁপ আর সীমাহীন দায়িত্বের ভিড়ে আমরা প্রাকৃতিক চাহিদাগুলো প্রায়ই ভুলে যাই। অথচ মানুষেরও তো মানসিক অবকাশের প্রয়োজন আছে। এই ভ্রমণ আমাদের জন্য শুধু বিনোদন নয়, এটি ছিল স্বাস্থ্যকর অবকাশ, যা আমাদের মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে। সাংবাদিকদের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা মানে তাদের নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলা।”
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই বক্তব্য ভ্রমণের উদ্দেশ্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।
১৫ আগস্টের শিক্ষা
শুক্রবারের সেই ভ্রমণ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে—জীবনের সত্যিকারের আনন্দ লুকিয়ে আছে মিলনের মুহূর্তে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে আর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়ের ভাঁজে। ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে এই একদিনই প্রমাণ করে দিল—আনন্দ ভাগাভাগি করলে তবেই তা পূর্ণতা পায়।
সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ১৫ আগস্টের সেই শুক্রবারের ভ্রমণ তাই হয়ে থাকবে আমাদের স্মৃতিতে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।