রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল শুক্রবার (২২ আগস্ট) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় গণ-অভ্যুত্থানের পর গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও তার স্ত্রী নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে বিক্রমাসিংহে শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। তারপর অনুরা কুমারা দিসানায়েক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
শ্রীলঙ্কার গণ-অভ্যুত্থান
২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হয়। জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দেয়, মুদ্রাস্ফীতি চরমে ওঠে। জনগণের ক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের দাবি ওঠে।
শ্রীলঙ্কার গণ-অভ্যুত্থান
এই অস্থিরতার মধ্যে মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গোতাবায়া তখন বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য। কিন্তু পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠলে গোতাবায়া নিজেও দেশ ছেড়ে পালান। ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিক্রমসিংহে তখন শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। পরবর্তীতে সংসদে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী দুল্লাস আলাহাপ্পেরুমাকে হারিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
যেভাবে পতন হলো রনিলের
গণ-অভ্যুত্থানের পর শ্রীলঙ্কাকে স্থিতিশীল করতে আইএমএফ–সমর্থিত সংস্কার, ঋণ পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণের নীতি গ্রহণ করেছিলেন বিক্রমসিংহে। কিন্তু এসব নীতির ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিক্ষোভকারীদের দমন করে। তাদেরকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবেও আখ্যাইত করেন। এটি তাঁর জনপ্রিয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কার নির্বাচনে ভরাডুবি হয় রনিল বিক্রমাসিংহেরল। তিনি মাত্র মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট পায়। অন্যদিকে মার্কসবাদ–পন্থী জাতীয় জনশক্তির (এনপিপি) প্রার্থী অনুরা কুমারা দিসানায়েকের ৪২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে।
শ্রীলঙ্কার গণ-অভ্যুত্থান
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিক্রমসিংহের নেওয়া কঠোর মিতব্যয়ি পদক্ষেপ শ্রীলঙ্কাকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফেরালেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রচণ্ড অসন্তোষ সৃষ্টি করে। তবুও পরাজয়ে তিনি ভদ্রতা বজায় রাখেন। দিসানায়েকেকে উদ্দেশ্য করে এক বিবৃতিতে লিখেছিলেন, মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসা দিয়ে এই প্রিয় সন্তান শ্রীলঙ্কাকে হস্তান্তর করছি, যাকে আমরা দুজনেই খুব ভালোবাসি।
কিন্তু গতকাল হঠাৎ করেই চমকপ্রদ খবর প্রকাশিত হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, বিক্রমাসিংহে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার করেছেন, এবং সেই অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি আর্থিক অপরাধ তদন্ত বিভাগে (এফসিআইডি) হাজির হয়েছিলেন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে তাঁর সফর সম্পর্কিত জবানবন্দি দিতে।
শ্রীলঙ্কার গণ-অভ্যুত্থান
সে সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রীর একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অভিযোগ হচ্ছে, তিনি ব্যক্তিগত কাজে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করেছেন। হাভানায় অনুষ্ঠিত জি–৭৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি লন্ডনে থেমে যান এবং সেখানেই স্ত্রীসহ ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এর আগে বিক্রমাসিংহে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর স্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় তিনি নিজেই বহন করেছিলেন এবং কোনো সরকারি অর্থ ব্যবহার হয়নি।