সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে তরুণদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপাল।
আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে, বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে নেপাল পুলিশ। বিক্ষোভকারী–পুলিশ সংঘর্ষে ২০ জন নিহত হয়। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট ও ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সংসদ ভবনের প্রাঙ্গণে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করার পর পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে। পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াটার ক্যানন, টিয়ারগ্যাস এবং তাৎক্ষণিক গুলিবর্ষণ ব্যবহার করে, এতে অনেকেই আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যান। এখনও তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
আহত আরও শতাধিক বিক্ষোভকারীকে সিভিল হাসপাতাল, এভারেস্ট হাসপাতাল, ট্রমা সেন্টার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সিভিল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন চন্দ্র রেজমি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন আরও চারজন মারা গেছেন। তারা সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হন। এছাড়া ট্রমা সেন্টারে বিক্ষোভে আহত আরও ১৬ জন নিহত হন।
নেপালে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ রয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলেও একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা কাঁটাতারের বেড়া এড়িয়ে নতুন বানেশ্বরে সংসদ ভবন ঘিরে ফেলার সময় দাঙ্গা পুলিশকে পিছু হটতে বাধ্য করে।
এসময় বিক্ষোভকারীরা গাছের ডাল এবং জলের বোতল ছুঁড়ে মারলে এবং সরকার বিরোধী স্লোগান দেয়ার পর পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেয়। কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, কয়েকজন বিক্ষোভকারী এমনকি সংসদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।
অস্থিরতার প্রতিক্রিয়ায়, কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন অফিস রাজধানীর বানেশ্বর এলাকায় প্রাথমিকভাবে আরোপিত কারফিউর মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে এখন রাষ্ট্রপতির বাসভবন (শীতল নিবাস), লৈনচৌরে উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন, মহারাজগঞ্জ, সিংহ দরবারের চারপাশ, বালুওয়াতারে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোর মতো বেশ কয়েকটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।