খাইবার পাখতুনখোয়ার ওরাকজাই জেলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও একজন মেজরও রয়েছেন।
আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল খারিজ’ নামক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতির তথ্য পেয়ে সেনাবাহিনী ওরাকজাই জেলায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে। ‘ফিতনা আল খারিজ’ নামটি নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর সরকারি নাম।
আইএসপিআর জানায়, অভিযানে সেনাসদস্যরা কার্যকরভাবে পাল্টা লড়াই করে ১৯ জন সন্ত্রাসী হত্যা করে। তবে বন্দুকযুদ্ধের সময় সরাসরি অভিযান পরিচালনাকারী ৩৯ বছর বয়সী লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুনায়েদ আরিফ ও তাঁর সহকারী ৩৩ বছর বয়সী মেজর তাইয়্যাব রাহাতসহ আরও নয়জন সেনাসদস্য শহীদ হন।
নিহত সেনাসদস্যদের মধ্যে রয়েছে- ৩৮ বছর বয়সী নায়েব সুবেদার আজম গুল, ৩৫ বছর বয়সী নায়েক আদিল হুসাইন, ৩৪ বছর বয়সী নায়েক গুল আমির, ৩১ বছর বয়সী ল্যান্স নায়েক শের খান, ৩২ বছর বয়সী ল্যান্স নায়েক তালিশ ফারাজ, ৩২ বছর বয়সী ল্যান্স নায়েক ইরশাদ হুসাইন, ২৮ বছর বয়সী সৈনিক তুফায়েল খান, ২৩ বছর বয়সী সৈনিক আকিব আলি এবং ২৪ বছর বয়সী সৈনিক মুহাম্মদ জাহিদ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলাকায় ভারত-সমর্থিত জঙ্গি লুকিয়ে আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে পরিস্কার অভিযান চলছে।
আইএসপিআর জানায়, ‘দেশ থেকে ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূলের সংকল্প নিয়েই সেনারা কাজ করছে। আমাদের সাহসী সৈনিকদের এই আত্মত্যাগ সেই সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং ১৯ জন সন্ত্রাসী হত্যায় সেনাবাহিনীর সফলতার প্রশংসা করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাদের সাহসী সন্তানদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না। ভারতপুষ্ট সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা আমরা চূর্ণ করব। যারা পাকিস্তানের ঐক্য ও শান্তি নষ্ট করতে চায়, তাদের সফল হতে দেব না। সরকার সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের ব্যাপারে অটল।