প্রকাশ: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৫১ পিএম (ভিজিট : ৫৬১)

X
সরকারবিরোধী তুমুল আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা। সামরিক বাহিনীর বিমানে করে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন তিনি। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ‘জেনারেশন জেড’ তরুণদের বিক্ষোভের মুখে বিশ্বে দ্বিতীয় সরকারের পতন ঘটেছে মাদাগাস্কারে। দেশটির সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা সিতেনি রান্দ্রিয়ানা সোলোনিয়াইকো রয়টার্সকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশত্যাগ করেছেন। সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিট বিদ্রোহ করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট পালিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ফোন করে নিশ্চিত হয়েছি, তিনি দেশ ছেড়েছেন। প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।
এর আগে, প্রেসিডেন্টের দপ্তর বলেছিল, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন রাজোয়েলিনা। তবে এই বিষয়ে পরবর্তীতে আর কোনও তথ্য জানানো হয়নি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলছিল দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তরুণদের (জেন-জিদের) নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ। রাজধানী আন্তানানারিভোসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে। এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ‘ক্যাপসাট’ প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার করে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ায়। ফলে রাজোয়েলিনা ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর, যখন রাজধানীতে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। অল্প সময়েই সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে—দুর্নীতি, খারাপ শাসন ও মৌলিক সেবার ঘাটতির বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয় এটি।
বিরোধীদলীয় নেতা সিতেনি র্যান্দ্রিয়ানাসোলোনিয়াইকো জানিয়েছেন, সংসদের বিরোধী সদস্যরা ইতোমধ্যে রাজোয়েলিনার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা অভিযোগ করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র’ চলছে। যে ক্যাপসাট ইউনিট ২০০৯ সালে তাকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিল, সেই একই ইউনিট এবার তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ইউনিটটি ঘোষণা করেছে, তারা এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে এবং নতুন সেনাপ্রধানও নিয়োগ দিয়েছে।
এর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আরও কিছু অংশ ও আধাসামরিক বাহিনী (প্যারামিলিটারি) বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মাঠে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভেঙে পড়ে।
জনরোষের মুখে সিনেট সভাপতি জ্যাঁ আঁন্দ্রে এনদ্রেমাঞ্জারিকে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিত থাকলে সিনেট সভাপতি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সোমবার হাজারো মানুষ একত্রিত হয়ে স্লোগান দেন—‘প্রেসিডেন্টকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে।’ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২২ বছর বয়সী এক হোটেলকর্মী বলেন, ‘আমি মাসে ৩ লাখ আরিয়ারি (প্রায় ৬৭ ডলার) আয় করি। এত অল্প টাকা দিয়ে শুধু খাবার জোটানোই কঠিন। ১৬ বছরে সরকার শুধু নিজেদের ধনী করেছে, আমরা তরুণরা আরও গরিব হয়েছি।’