
X
দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের বৈঠকের পরও প্রত্যাশিত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা যায়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির অনুমতি নিয়ে আলোচনা চলায় চুক্তির কাগজপত্র প্রকাশে দেরি হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন রবিবার স্থানীয় সম্প্রচারক কেবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যেহেতু পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য কিছুটা সময় লাগছে।
লি জে মিয়ং গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া–প্যাসিফিক ফোরামের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সাবমেরিন ইস্যুটি প্রকাশ্যে তোলেন। সেই বৈঠকের পর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি যৌথ তথ্যপত্র শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এক জ্যেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট সহকারী শুক্রবার জানান, ওয়াশিংটন পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারে সিউলকে নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট মার্কিন বিভাগগুলো এখনও মতামত দিচ্ছে এবং শব্দ চয়নে পরিবর্তন আনছে — ফলে চূড়ান্তকরণে সময় লাগছে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সাবমেরিন প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সাবমেরিন নির্মাণ অনুমোদিত হয়েছে, তবে তা মার্কিন জাহাজ নির্মাণ কারখানায় করা হবে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
একই সময়ে দুই দেশ দাবি করছে যে, তারা বাণিজ্য চুক্তির খসড়ায় একমত হয়েছে। তবে বিনিয়োগ তহবিলের কাঠামো নিয়ে মতবিরোধের কারণে ট্রাম্প–লি বৈঠকের পর কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শুল্ক সংক্রান্ত খসড়াটি প্রায় চূড়ান্ত। যখন যৌথ তথ্যপত্র ঘোষণার জন্য প্রস্তুত হবে, তখনই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্যাকেজের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত থাকলেও এখনও স্বাক্ষরিত হয়নি।
কর্মকর্তা জানান, আমরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় আছি, যাতে এটি সংসদে উপস্থাপনসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক সাবমেরিন ইস্যু শুধু কোরিয়ার প্রতিরক্ষা নয়, আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যেও নতুন হিসাব তৈরি করতে পারে।