প্রকাশ: রোববার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৯ পিএম আপডেট: ৩০.১১.২০২৫ ৭:৩১ পিএম (ভিজিট : ১২০)

X
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রবেশ পদ ‘সহকারী শিক্ষক’কে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্তকরণসহ চার দফা দাবিতে আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলমান বার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত থাকবে। ২৪ নভেম্বর শুরু হওয়া পরীক্ষার বাকি অংশও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত দুদিন ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষকরা কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছেন। সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া এলে শুক্র ও শনিবার পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে; দাবি না মানলে কর্মবিরতি চলমান থাকবে।
শিক্ষকদের প্রধান ৪টি দাবি হলো-
১. সহকারী শিক্ষক পদটিকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেট দ্রুত সময়ে প্রকাশ।
২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা।
৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান।
৪. ২০১৫ সালের পূর্বের মতো সহকারী শিক্ষকদের ২ থেকে ৩টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডে রয়ে গেছে, অথচ পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পুলিশের ইন্সপেক্টরসহ বহু পদ নবম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। ফলে তারা মর্যাদাহীনতা ও বৈষম্যের শিকার। বর্তমানে ১০ হাজার ৮৮৪ পদের মধ্যে ৭ হাজার ৯০০ পদে শিক্ষক কর্মরত, যার ফলে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ায় শিক্ষকরা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছেন।
এছাড়া ২০১৭ সাল থেকে বিসিএস নন-ক্যাডার তালিকা থেকে সরাসরি নিয়োগ পেলেও গ্রেড ও মর্যাদার কোনো উন্নয়ন হয়নি। উচ্চ আদালতের রায়ও বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। শিক্ষক নেতারা দাবি দ্রুত পূরণ না হলে সারাদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।