
X
ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি চাপ, সেইসাথে ভয়াবহ জনসংখ্যা সংকট- দুই চ্যালেঞ্জের মাঝেই জন্মহার বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা ভাবছে রাশিয়া। সন্তানধারণে তরুণদের অনীহা ও ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা জন্মহারের প্রেক্ষাপটে এবার রাতের নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখার প্রস্তাব সামনে এনেছে দেশটির নীতিনির্ধারকেরা।
রাশিয়ার ফেডারেল স্টেট স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (রোসস্ট্যাট)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে মাত্র ১২ লাখ ২২ হাজার শিশুর জন্ম নথিভুক্ত হয়েছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০১৪ সালের তুলনায় জন্মহার কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ায় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সন্তান ধারণে অনীহা বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে জন্মহার নেমে এসেছে কয়েক দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
এমন প্রেক্ষাপটে সরকার মনে করছে, রাতের বেলায় অতিরিক্ত স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে পারিবারিক সময় ও দাম্পত্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের ধারণা, রাতে স্ক্রিনমুখী জীবন থেকে মানুষকে কিছুটা দূরে রাখলে তারা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেবে এবং পরিবারকে বেশি সময় দেবে। এতে দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সন্তান জন্মদানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সমালোচকদের মতে, জন্মহার হ্রাসের মূল কারণ বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট নয়। বরং আবাসন সংকট, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সন্তান লালন-পালনের ব্যয়, এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাগুলোই পরিবার গঠনে বড় বাধা।
গঠিত হবে ‘মিনিস্ট্রি অব সেক্স’
রাষ্ট্রীয় নির্দেশে ভালোবাসা বা রোমান্স সৃষ্টি করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এছাড়া রাতের বেলায় কাজ করা মানুষ, ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন শিক্ষার্থী কিংবা জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে জনসংখ্যা বাড়াতে আরও কিছু বিতর্কিত প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে মিনিস্ট্রি অব সেক্স গঠনের ভাবনা এবং সন্তান জন্ম দিলে আর্থিক ভাতা দেওয়ার সুপারিশ। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম সন্তান জন্ম দিলে পরিবারকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার রুবল সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিয়ের পর প্রথম রাতে বিশেষ স্থানে সময় কাটানোর জন্য আর্থিক সহায়তার কথাও ভাবা হচ্ছে।
বর্তমানে রাশিয়ায় এককালীন প্রসবকালীন অর্থ প্রদান, বর্ধিত মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এমনকি ১০টির বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের জন্য সোভিয়েত যুগের ‘মাদার হিরোইন’ সম্মাননাও পুনরায় চালু করা হয়েছে।