প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৮ এএম (ভিজিট : ৮৭)

X
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং আসন্ন কনভোকেশন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) কর্তৃপক্ষ এ বছরের ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৫’ উদযাপন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১০ সালের ২২ ডিসেম্বর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয় বুটেক্স। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর ২২ ডিসেম্বর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদযাপন করা হয়ে থাকে। এ বছর দিবসটি আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের পরিকল্পনা থাকলেও আগামী ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বুটেক্সের প্রথম কনভোকেশনের প্রস্তুতি এবং দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব আনুষ্ঠানিকতা একদিন আগে স্থগিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করি। পরে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানালে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর দুই হলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস অনুষ্ঠিত হবে না।”
ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদ সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মতো বড় আয়োজন নিয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। এই দিনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের বড় জমায়েত হয়। যেহেতু কনভোকেশনের কারণে অনুষ্ঠানটি করা যাচ্ছে না, বিষয়টি আরও আগে জানানো উচিত ছিল এবং আলাদা করে কমিটি গঠনেরও প্রয়োজন ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মত হলো, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যেতে পারে।”
ওসমানী হলের ছাত্র প্রতিনিধি ও ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌমিক সাহা বলেন, “নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন আয়োজন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, র্যালি বাদ দিয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান করা হোক। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হলের শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট মিল চালু রাখা হবে।”
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, “শহীদ ওসমান হাদী ভাইয়ের হত্যাসহ দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস স্থগিত করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সিদ্ধান্তটি সঠিক বলেই মনে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে দিবসটি আরও আড়ম্বরপূর্ণ ও শিক্ষার্থীবান্ধবভাবে উদযাপিত হবে বলে আশা করি।”
নজরুল হলের ছাত্র প্রতিনিধি ও ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় দিবস প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি আবেগের জায়গা। আমরা প্রতিবছর এটি জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপন করে থাকি। এ বছরও আমরা তা করতে চেয়েছিলাম। অথচ মাত্র একদিন আগে নোটিশ দিয়ে দিবসটি স্থগিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখালেও আমাদের নিয়মিত পরীক্ষা স্থগিত হয়নি, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে আমরা আবাসিক শিক্ষার্থীরা হতাশ।”