
X
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে চলমান রাষ্ট্রীয় শোক আর আইনি নিষেধাজ্ঞার আবহে রাজধানীর রাত হওয়ার কথা ছিল সংযত, নীরব ও শোকাবহ। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।
রাষ্ট্রীয় শোক উপেক্ষা করে থার্টিফার্স্ট নাইটে ঢাকার আকাশ ভরে ওঠে আতশবাজির আলোয়, বাতাস ভারী হয় পটকার বিকট শব্দে, আর অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে গান-বাজনা ও উচ্ছৃঙ্খল উল্লাস। তরুণ যুবকদের গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে দল বেঁধে বিভিন্ন এলাকায় হর্ন বাজাতে বাজাতে ঘুরতে দেখা গেছে।
নতুন বছরকে বরণ করার নামে নতুন ঢাকা ও পুরাতন ঢাকার বিস্তীর্ণ অংশে রাতভর চলেছে আইন অমান্য, সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও দায়িত্বহীন উদযাপন।
ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে সরকার আগেই আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ করেছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাষ্ট্রীয় শোক। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি, র্যালি ও শোভাযাত্রা আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ঠিক রাত ১২টায় শোকের আবহ মিলিয়ে যায় আতশবাজির শব্দে, আর নিষেধাজ্ঞা হারিয়ে যায় উচ্ছৃঙ্খল উদযাপনের ভিড়ে।
রাতে সরেজমিনে পুরাতন ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, চকবাজার, বংশাল, ওয়ারী, সূত্রাপুর ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হচ্ছে। পুরান ঢাকার এসব এলাকায় বাসাবাড়ির ছাদে ছাদে আয়োজন করা হয় গান-বাজনা, আলোকসজ্জা ও বারবিকিউ পার্টির। হিন্দি ও পশ্চিমা গানের তালে তরুণ-তরুণীদের নাচ-গানে মেতে উঠতে দেখা গেছে।
এছাড়াও নতুন ঢাকার আনাচে-কানাচে ফানুস, পটকা ও আকাশরঙা আতশবাজি ফুটতে দেখা যায়।
রাজধানীর বিভিন্ন মদের বার ঘুরে দেখা যায়, বিকাল পাঁচটার পর থেকে খাওয়া ও পার্সেল দেওয়া বন্ধ থাকলেও বারগুলোর বাইরে উঠতি বয়সী যুবক-কিশোরদের ভিড় জমে।
এছাড়াও হাতিরঝিল এলাকায় কয়েকটি চেকপোস্ট থাকলেও কিছু মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে তরুণদের থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে দেখা গেছে।