
X
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা দেশের অন্যতম কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই উপজেলার বিস্তীর্ণ আবাদি জমিতে ধান, পাট, সরিষাসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। কৃষিনির্ভর এই জনপদের অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমানে উল্লাপাড়ার কৃষি ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে, যার মূল কারণ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উল্লাপাড়া উপজেলায় বর্তমানে মোট ৩৪টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ইটভাটা সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন এবং ১১টির কাগজপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, এসব ইটভাটা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়ছে উপজেলার কৃষিজমি ও ফসল।
ইটভাটার জন্য নির্বিচারে আবাদি জমির উর্বর টপ সয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। ভাটার মাটি সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষিজমির ওপরের উর্বর স্তর তুলে নেওয়ায় জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, টপ সয়েল কেটে নেওয়ার পর জমিতে আগের মতো ফলন হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এদিকে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস আশপাশের ফসলের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাটার কাছাকাছি জমিতে ধান, সরিষা ও অন্যান্য ফসল পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু কৃষিই নয়, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষতিকর ধূলিকণা ও বিষাক্ত গ্যাস, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইটভাটা এলাকার বাসিন্দারা জানান, শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও শ্বাসজনিত নানা রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে।
অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাঁদের অভিযোগ, মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও দুয়েকদিন পরেই আবার আগের মতো অবৈধ ভাটাগুলো চালু হয়ে যায়।
ইটভাটার কারণে কৃষি ক্ষতির বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমীন সুমী বলেন, “ইটভাটার ধোঁয়া এবং আবাদি জমির টপ সয়েল অপসারণের কারণে আশপাশের ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়বে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএম আরিফ হাসান বলেন, “এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। অচিরেই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”