আমতলীতে বস্তাবন্দী মরদেহ শনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী মরদেহটি জাবেদ ইমন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের বলে শনাক্ত করেছেন

2026-08-09T18:25:05+00:00
2026-08-09T18:25:05+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আমতলীতে বস্তাবন্দী মরদেহ শনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম   (ভিজিট : ৬)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী মরদেহটি জাবেদ ইমন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের বলে শনাক্ত করেছেন তার বাবা। 

ইমন আমতলী এ কে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আজ রোববার (৯আগস্ট) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।

বেলা ১১টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের এ কে স্কুল এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে ইমনের সহপাঠীসহ বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ইমন হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছেলে জাবেদ ইমন গত ২৬ জুলাই বিকেলে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে যায়। সেখানে ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার (হৃদয়) তাকে ডেকে তাঁর দোকানে নিয়ে যান। ওই দোকানে ইমনের বন্ধু সাজিদকে রেখে ইমরান ইমনকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে পরিবারের অভিযোগ।

ওই দিন রাত নয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ইমনের খোঁজ করলে জানতে পারেন, ইমরান তালুকদারের সঙ্গে ইমন রয়েছে। এরপর থেকে ইমনের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ওই রাতেই ইমরান তালুকদার ইমনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা ফাতেমা বেগমের কাছে ইমনের কাছে তিন হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

পরদিন ২৭ জুলাই আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বহিষ্কৃত ছাত্রদল সদস্যসচিব সগির বিশ্বাস ইমনের বাবার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ইমন বালিয়াতলীতে রয়েছে বলে জানান—এমন অভিযোগ করেছেন ইমনের বাবা। তাঁর অভিযোগ, এরপর তিন দিন ধরে সগির বিভিন্নভাবে তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করেন।

এ ঘটনায় ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদা ২৮ জুলাই আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় পায়রা নদীর তীরে বস্তাবন্দী অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানা-পুলিশ। মরদেহটি পচে যাওয়ায় তখন পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করতে পারেননি।

৩০ জুলাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিনই মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে বরগুনায় দাফন করা হয়।

পরে ৩১ জুলাই আমতলী থানা-পুলিশ ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদাকে থানায় ডেকে নিয়ে বস্তাবন্দী মরদেহের পরনে থাকা পোশাক দেখায়। পোশাক দেখে তিনি সেটি তাঁর ছেলে জাবেদ ইমনের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, ইমন হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তালতলী নিদ্রা-শকিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাগর ভদ্রকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমনের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর সগির বিশ্বাস ও ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাবেদ ইমন একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। তাঁকে হত্যা করে বস্তাবন্দী অবস্থায় পায়রা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই। ইমরান তালুকদার আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গেছে। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ। সগির বিশ্বাস আমার ছেলের সন্ধান দেওয়ার কথা বলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছে। কিন্তু সে আমার ছেলের সঠিক সন্ধান দেয়নি। উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করেছে।”

তালতলী নিদ্রা-শকিনা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক সাগর ভদ্র বলেন, “স্কুলছাত্র ইমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।”

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “স্কুলছাত্র ইমন হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তালতলী নৌ-পুলিশের পরিদর্শককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।”






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy