প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম (ভিজিট : ২৩৭)

X
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও শরীরে আগুন দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। গত রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা বাজারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ব্যক্তি খোকন চন্দ্র দাস (৫০) ওই বাজারের একজন ব্যবসায়ী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন।
ডামুড্যা থানা সূত্রে জানা যায়, খোকন চন্দ্র দাস কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিলই গ্রামের বাসিন্দা পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙ্গা বাজারে ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও দোকান বন্ধ করে সারাদিনের বিক্রির টাকা নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। ডামুড্যা–শরীয়তপুর সড়ক ধরে ফেরার পথে কেউরভাঙ্গা বাজারের অদূরে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা অটোরিকশাটি থামিয়ে তাকে মারধর করে।
এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এরপর তার মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণে বাঁচতে খোকন চন্দ্র দাস সড়কের পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ক
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম ও দগ্ধ হওয়ার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত খোকন চন্দ্র দাসের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, ‘আমার স্বামী প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। বুধবার রাতে ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। তিনি হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে চিনে ফেলেছিলেন। এজন্যই সম্ভবত তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে এবং মাথা ও মুখমণ্ডলে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা বা বিরোধ নেই। কেন হঠাৎ আমার স্বামীকে নিশানা করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যে ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পেটের একটি আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া মুখমণ্ডল, মাথার পেছনের অংশ ও হাতে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে।’