
X
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার ভোরে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে শহরের দক্ষিণাঞ্চলে কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে, যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরণের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও রয়টার্স সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি শহরের একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি ঘটেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরেই ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছেন, যদিও তিনি তার উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে জানাননি। ট্রাম্প গত সোমবার বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দেশ ছেড়ে পালানোর পরামর্শ দেন, এবং তাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াকে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
মাদুরো দাবি করেছেন, মার্কিন প্রশাসন তার দেশের বিপুল তেলসম্পদের দখল নিতে চাচ্ছে, এবং এই উদ্দেশ্যে সরকার পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করছে। গত মাসে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার জলসীমায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের প্রবেশ এবং প্রস্থান নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার ভোরে এই হামলা মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সংগঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার সরকার এই হামলার নিন্দা জানিয়ে তা ‘একটি গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সরকার জানায়, এটি তাদের তেল এবং খনিজ সম্পদ দখল করার মার্কিন চেষ্টার অংশ।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং এই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সামরিক আগ্রাসন তুলে ধরার দাবি জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি তুলেছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। দেশের জনগণকে এসব ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ মোকাবিলায় একত্রিত ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।