
X
ঢাকা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শাহীনুর ইসলামসহ ৮ জন মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। জাতীয় পার্টির (জেপি) ফারুকসহ আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম।
অন্য যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে, তারা হলেন— গণ অধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. জাফর, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান আহমেদ খান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মজিবুর হাওলাদার, গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী।
জাতীয় পার্টির ফারুখ ছাড়াও স্বতন্ত্র ৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ঋণ খেলাপি ও এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনে গড়মিলর কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করার কথা বলা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের রিপোর্ট অনুসারে, জেপির ফারুকের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বকেয়া আছে। মনোনয়নপত্র দাখিল করার ৭ দিন আগে সব বিল পরিশোধ করার বিধান থাকলেও তিনি তা করেননি। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ আলীর বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ঋণ খেলাপি (পূবালী ব্যাংকের)। ১ শতাংশ ভোটারের মধ্যে দৈবভাবে নির্বাচিত ১০ জন স্যাম্পল ভোটারের একজনেরও সত্যতা পাওয়া যায়নি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেনের মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, আপনার ১ শতাংশ ভোটার ভ্যারিফিকেশনে ভোটারদেরকে চিহ্নিত করতে পারিনি। ভ্যারিফিকেশনে আমরা আপনার সম্পর্কে নেগেটিভ পেয়েছি। তাই আমরা আপনার মনোনয়নপত্রটি গ্রহণ করতে পারছি না।
নাজিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ১ শতাংশ ভোটারের মধ্যে ১০ জন স্যাম্পল ভোটারের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা পারুল মোল্যা, বেলাল হোসেন ও রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রেও ১ শতাংশ ভোটারের সত্যতা মেলেনি।
এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। পরদিন থেকে বাছাই শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
মনোনয়নপত্র বাতিল হলে নিয়ম অনুযায়ী আপিলের সুযোগ পাবেন আগ্রহী প্রার্থীরা। বাছাইয়ে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল দাখিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
দলীয় প্রার্থী হতে দলীয় প্রত্যয়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নির্বাচনী এলাকার ১% ভোটারের সমর্থন বা সাবেক সংসদ সদস্য হলে চলবে। সমর্থন তালিকা থেকে দ্বৈচয়নের ভিত্তিকে বাছাই করে সঠিকতা যাচাই করে রিটার্নিং অফিসার সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।
ঢাকা-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৫৯ জন। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার প্রতি একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।