
X
বিগত সময়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে শুধু নির্বাচন কিংবা নির্বাচন কমিশনই নয়, বরং দেশের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কলঙ্কিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিনে সফরে এসে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। “জুলাই আন্দোলনের অন্যতম ব্যাকগ্রাউন্ড কারণ ছিল সত্যিকারের গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং বারবার খারাপ নির্বাচন। আমরা সবাই বিষয়টি জানি। যদি তা উপলব্ধি করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেব না।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। আপনারা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকেন। অন্যান্য বাহিনী আপনাদের সহায়তা করবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। এখন থেকেই সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে কোনো অবস্থাতেই যেন নির্বাচন বিঘ্নিত, নষ্ট বা বিতর্কিত না হয়।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা এই তিনটি শর্তের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচন পরিচালিত হবে। আমাদের কাজ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। লুকোচুরির কোনো সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কোনো পক্ষ অবলম্বন না করে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হচ্ছে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করা। অতীতে মাঝপথে সৃষ্ট ছোটখাটো সমস্যাগুলো অনেক সময় মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এবার সে জায়গায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে একই দিন নির্বাচন কমিশনার বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আরেকটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব, নির্বাচন কমিশনারের সহকারী একান্ত সচিব এএসএম জাকির হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।