প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম (ভিজিট : ৭৬)

X
হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও অনেক নিরীহ মানুষকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার কিংবা নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে।
পুলিশি তৎপরতার ভয়ে অনেকেই নিজ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশু সদস্যরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষ।
এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এমন দমনমূলক পরিবেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও অংশগ্রহণকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সচেতন নাগরিক সমাজের অভিমত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে যদি নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হয়, তাহলে রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধী শনাক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।