
X
সহজ দৃশ্যকাব্য
যথারীতি পৃথিবীর প্রেক্ষাগৃহে চলছে
গার্হস্থ্য-ভূগোলের পাঠ,
চলছে লেনদেন পার্থিবতা নিয়ে
যোগ- বিয়োগ তথা সময়ের দর-কষাকষি,
যেখানে ভিজে জবুথবু আমাদের সমাজ বিজ্ঞান।
যেখানে তর্কে তর্কে-
আমরা সরে যাচ্ছি জীবনের মূল পটভূমি থেকে,
চলুন বাদামী কফির ঘ্রাণ নিতে নিতে চুমুক দেই
নরম রোদের মুক্ত পাঠে-
চলুন, সুবহে সাদিকের মতো বিশুদ্ধ হই;
যেমন ফুলের সহজিয়া ঘ্রাণে মৌ মৌ করে
ভোরের কচি পাতারা...
এমন দৃশ্যকাব্যে নবজাত শিশুর মতো উদার হই,
চলুন কবিতার মতো এক-একটা গোলাপের চারা
চাষ করি, চলুন জ্যোৎস্না মাখানো চাঁদকে দেখে
একটিবার বলি ভালবাসি...
দৃশ্যের ওপারে
চোখের মাঝে ঘোলা কাচ ঝুলিয়ে
দৃশ্যের অন্তরালে জমে থাকা নীল ক্ষত খুব ঝাপসা মনে হয়,
জীবনের আঙিনা ছুঁয়ে রেলগাড়ি ছুটে যায় কুঁ ঝিক ঝিক
তাই শুনতে পাইনি নবজাতকের কান্নার সুর,
নাসারন্ধ্রের জমাট রক্তে অনুভূত হয়নি অরণ্যের চিৎকার;
শামুকের দল- বুকের ওমঘরে খুব একা বুনে বিষণ্ন
পীড়নের দাগ, যেমন মেঘের আঁচল বুকে নিয়ে
দৃশ্যের ওপারেও আটপৌরে জীবন কাটায়
হাজারো অমেয় পাহাড়; এমন সহজিয়া প্রকৃতির কাছে
পরাজিত মানুষের মলীন চেহারা, আমি দেখতে চাইনি
এরচেয়ে ঢের ভাল অন্ধ হয়ে যাওয়া...
আবৃত্তি
সহস্র ব্যর্থতার চিহ্ন উড়িয়ে
মুঠো মুঠো সংশোধনী বার্তা গায়ে জড়াতে চেয়েছি
শুধু তোমার অস্তিত্বে শিল্পময় কারুকাজ আঁকবো বলে
উপসংহারে শূন্যতার যন্ত্রণা এড়াতে
শীতের শরীরে ওম জড়ো করেছি;
চলো না- একবার জীবন আবৃত্তি করি
আমাদের সেই চিরচেনা কাঠগুড়ির ওপর...
যৌথ প্রতিশ্রুতি
হয়তবা নদী কখনও- খবর রাখেনি
নৌকার পাটাতনের, তবুও বহতা নদীই
রমণীয় সুরে বয়ে নিয়ে চলে
পৌষের ঘ্রাণ, মুঠোভরা কদমের সুভাস।
জলের টুপটাপ শব্দে বিলিয়ে দাও
তোমার থুতনিতে আছে যতো চিন্তার ছাপ
দীর্ঘশ্বাসগুলো জমা রেখে আসো
ঘাসের বৃন্তে সবুজের আশ্বাসে।
এই নাও এক টুকরো রেশমি রুমাল-
সমর্পণ করো দক্ষিণের রুপালি বাতাস
বিছিয়ে দাও আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি
এবার এফিটাপ নয়, হোক কালোত্তীর্ণ কবিতা