প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৫০ পিএম (ভিজিট : ৪৪)

X
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. ইয়াছিন আরাফাত (২৫)। তিনি ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ী কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। ইয়াছিন ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমামতি করতেন এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতও নেতৃত্ব দেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় ১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার সারুলিয়া এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি ‘সুফফা’ নামের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, পূর্ববর্তী তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, ঘটনার দিন কারখানার গেটে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ডিএমপির সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত দিপু চন্দ্র দাস (২৭) ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কারখানা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই সময় দিপু কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয় এবং রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি গাছে মরদেহ ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এ মামলায় ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ৯ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৮ জনকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।