ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় অনিয়মের অভিযোগ এনে আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এস. এম. জামাল উদ্দিন নামে এক রোগী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালকে স্বাধীন বাংলাদেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার একটি প্রতীকী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সম্প্রতি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ঘটে যাওয়া একটি গুরুতর অভিযোগ সেই বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ঢাকার বারিধারার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, আমার হৃদযন্ত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমাকে দুটি ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে, যা আমার জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারত।
“গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে SP PCI ও CABG পরীক্ষার জন্য আমি উপস্থিত হই। চিকিৎসক ডা. আফজালুর রহমান আমাকে মোট ১৮টি পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। পরীক্ষার পর প্রথম রিপোর্টটি ডা. মো. হেলাল উদ্দিন প্রদান করেন, যেখানে আমার হৃদযন্ত্রের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর দুইজন নার্স এসে রিপোর্টটি জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে নিয়ে যান। এরপর ডা. হেলাল উদ্দিন একটি নতুন রিপোর্ট দেন, যেখানে আমার হৃদযন্ত্রের অবস্থা ‘স্বাভাবিক’ বা ‘ভালো’ হিসেবে দেখানো হয়। এই হঠাৎ পরিবর্তিত রিপোর্টে গুরুতর অসঙ্গতি থাকার কারণে আমি বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।”
অভিযোগ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রিপোর্টের সত্যতা যাচাই করতে চাইলে জানানো হয় যে মূল রিপোর্ট হাসপাতালের কাছে আর নেই-যা রোগীর তথ্য সংরক্ষণ ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করে। রিপোর্টের দ্বন্দ্বের পাশাপাশি হাসপাতালের নার্স, কর্মচারী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের আচরণও অশালীন ও হয়রানিমূলক ছিল। আমি দাবি করছি, এই আচরণ রোগীর মর্যাদা, গোপনীয়তা ও আইনগত অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এমন ভুয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। ঘটনার পর আমি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।