রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে যারা গুলি করেছেন, তারা তার পরিচিত বলে এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যে উঠে এসেছে। মুসাব্বির কিলিং মিশনে ৫ জন অংশ নেয়। তারা পেশাদার ও ভাড়াটে শ্যূটার। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডটি ‘পরিকল্পিত’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারে স্টার হোটেলের পাশের গলিতে মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।
বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, র্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছেন এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে।
সুরতহাল প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোসাব্বিরের পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চি পরিমাণ ছিদ্র। ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে একটা ছিদ্র। বাম পায়ের হাঁটুতে ছিল জখম। ধারণা করা হচ্ছে, গুলি লাগার পর তিনি পড়ে গিয়ে পায়ের হাঁটুতে আঘাত পান।
প্রত্যক্ষদর্শী মন্টু বলেন, গুলির আওয়াজ শোনার দুই-তিন সেকেন্ড পরে মুসাব্বির ভাই দৌড় মারছে। দৌড়ের মধ্যে ভাই বলতেছিলেন, ‘তোরা করলিডা কি আমারে?’। এই কথা বলতে বলতে একটু সামনে মোড়ে মুদি দোকানের সামনে গিয়ে পড়ে যায় ভাই।”
দৌড়ে গিয়ে মুসাব্বিরকে ধরেন মন্টু। তিনি তাকে বলেন, “আমাকে তোরা মেডিকেলে নে।”
সিসিটিভি ফুটেজে দুই খুনির মুখ স্পষ্ট দেখা যায়
এর পরে আর কথা বলেননি মুসাব্বির। পাশের দোকান থেকে পানি নিয়ে মোসাব্বিরের মাথায় পানি দেন মন্টু। কিছুটা পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। তবে পানি পান করতে পারছিলেন না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি, ফার্মগেটে গ্যারেজ দখল ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে সামনে রেখে এই হত্যা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্নকে সামনে রেখেই চলছে তদন্ত।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূলত দুটি মোটিভ কাজ করেছে–স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারওয়ান বাজারের দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিলিং মিশনে মোট পাঁচজন অংশ নেয়। গলির ভেতরে অস্ত্রধারী তিনজন সরাসরি গুলি চালায় এবং স্টার হোটেলের সামনে মূল সড়কে আরও দুজন মোসাব্বিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। এরা পেশাদার ভাড়াটে শুটার এবং কেউই স্থানীয় নন বলে দাবি গোয়েন্দাদের।