প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম (ভিজিট : ৪৮)

X
শাহজাদপুরে যমুনা নদীর ডানতীর সংরক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্পার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৫.৫৬ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫৮৪ কোটি ১২ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৮৯.৩৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় ৬.৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত হবে।
প্রকল্পের মাধ্যমে আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, থানা, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাট-বাজার ও সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রকল্পের লক্ষ্য।
মোট ৩৫টি প্যাকেজের মধ্যে ২৮টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ৭টির গড় অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ। বেতিল স্পার-১ শক্তিশালীকরণ কাজের অগ্রগতি ৯৭.৭৫ শতাংশ এবং এনায়েতপুর স্পার-২ শক্তিশালীকরণ কাজের অগ্রগতি ৭২.২৫ শতাংশ। এছাড়া ৩.৩০ কিলোমিটার ডুবোচর অপসারণ ও ড্রেজিং কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ভৌত অগ্রগতি ৫.৪১ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৭ কোটি ৪৮ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা, যা বরাদ্দের ৫.১৬ শতাংশ।
মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫৩ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন ও মো. পারভেজ প্রকল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করেছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ভাঙনজনিত ক্ষতির পর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে। গত সময়ে দুই-তিন দফা বন্যা হলেও কোনো সমস্যা হয়নি। প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে স্থানীয়রা আরও নিরাপদে জীবিকা চালাতে পারবে।