ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মী উভয় পক্ষের মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের ক্ষেত্রে দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের চেষ্টা করেছে। তারা অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদকে বৈধ বলে অভিহিত করেছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে দেশজুড়ে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে ইরান এবং বলেছে যে, অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা এসবের সঙ্গে জড়িত। এদিকে একটি অধিকার গোষ্ঠী জানিয়েছে, শত শত নিহত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বলেছে যে, বিক্ষোভ থেকে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের ওপর চালানো যেতে পারে এমন কয়েকটি সামরিক ও গোয়েন্দা পদক্ষেপের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির অংশীদার সিবিএস নিউজকে এমন তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা।
সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির জন্য প্রচারণার বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশটিতে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-সহিংসতায় এত বেশিসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।